॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ২৫ ॥

সক্তাঃ কর্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুর্বন্তি ভারত ।
কুর্যাদ্বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষুর্লোকসংগ্রহম্ ॥ ৩.২৫ ॥

সরল ভাবার্থ

হে ভারত! অজ্ঞ ব্যক্তিরা যেমন ফলের প্রতি আসক্ত হয়ে কর্ম করে, জ্ঞানী ব্যক্তিদেরও উচিত তেমনি আসক্তিহীন হয়ে লোককল্যাণের (সমাজ শিক্ষার) জন্য কর্ম করা।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এই শ্লোকটি জ্ঞানী এবং অজ্ঞ ব্যক্তির কর্মের তফাত এবং মিল দুটিই তুলে ধরেছে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, অজ্ঞ বা সাধারণ মানুষ খুব পরিশ্রম করে কাজ করে কারণ তারা ফলের প্রতি আসক্ত। তারা ভাবে—এই কাজ করলে আমার এই লাভ হবে। এই স্বার্থই তাদের কাজ করার শক্তি দেয়।

একজন জ্ঞানীর তো কোনো স্বার্থ নেই, তাহলে তিনি কেন কাজ করবেন? কৃষ্ণ বলছেন, জ্ঞানী ব্যক্তিও ঠিক সাধারণ মানুষের মতোই উদ্যমের সাথে কাজ করবেন, কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য হবে আলাদা। তিনি কাজ করবেন 'লোকসংগ্রহম্'—অর্থাৎ জগতকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য। জ্ঞানী ব্যক্তি যদি দায়সারাভাবে কাজ করেন, তবে সাধারণ মানুষও অলস হয়ে যাবে। তাই জ্ঞানীকে আরও বেশি সতর্ক হয়ে কাজ করতে হয়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো কাজের উদ্দেশ্য পরিবর্তনের শিক্ষা। কাজের ধরন বদলানোর দরকার নেই, কেবল কাজের লক্ষ্যটি বদলে ফেলুন। আপনি যদি পড়াশোনা করেন কেবল চাকরির জন্য, তবে আপনি আসক্ত। কিন্তু আপনি যদি পড়াশোনা করেন যাতে ভবিষ্যতে সমাজকে কিছু দিতে পারেন, তবে আপনি কর্মযোগী। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, তুমিও যুদ্ধ করো, কিন্তু তোমার লক্ষ্য হোক ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কর্ম আমাদের মুক্তির অন্তরায় নয়, বরং সঠিক মানসিকতা থাকলে কর্মই আমাদের দেবত্বের পথে নিয়ে যায়।