সরল ভাবার্থ
জ্ঞানী ব্যক্তি যেন কর্মাসক্ত অজ্ঞদের বুদ্ধিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করেন (অর্থাৎ তাদের কাজ ছেড়ে দিতে না বলেন)। বরং তিনি নিজে আসক্তিহীনভাবে কাজ করে তাদেরও কাজে উৎসাহিত করবেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি শিক্ষকদের বা নেতাদের জন্য এক মহান শিক্ষা। অনেক সময় জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলেন—এই সব কাজে কী হবে? জগত মিথ্যা, কেবল ধ্যান করো। কিন্তু সাধারণ মানুষ যারা আসক্ত হয়ে কাজ করছে, তারা যদি হঠাৎ কাজ ছেড়ে দেয় তবে তারা সন্ন্যাসী হতে পারবে না, বরং অলস ও ভবঘুরে হয়ে যাবে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, জ্ঞানী ব্যক্তির উচিত হবে না তাদের মনে 'বুদ্ধিভেদ' বা বিভ্রান্তি তৈরি করা।
পরিবর্তে, জ্ঞানী ব্যক্তি নিজে খুব সুন্দরভাবে কাজ করবেন যাতে অন্যরা তাঁকে দেখে উৎসাহিত হয়। যেমন একজন ভালো শিক্ষক নিজে পড়াশোনা করে ছাত্রদের শেখান। তিনি যদি বলেন পড়াশোনা করার দরকার নেই, জ্ঞান অর্জনই আসল—তবে ছাত্ররা বিভ্রান্ত হবে। জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ হলো সাধারণ মানুষকে কর্মের মাধ্যমেই আধ্যাত্মিকতার দিকে নিয়ে আসা।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো সাইকোলজিক্যাল হ্যান্ডলিং। মানুষকে হুট করে তাঁর স্তর থেকে টেনে তোলা যায় না। বরং তাঁর স্তরে নেমে তাঁকে হাত ধরে উপরে তুলতে হয়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, তুমি যদি আজ সন্ন্যাস নাও, তবে অন্য সৈনিকেরাও ভাববে যুদ্ধ করা পাপ, তারা কাজ ছেড়ে পালাবে। কিন্তু তুমি যদি আসক্তিহীনভাবে লড়াই করো, তবে তারা শিখবে কীভাবে ধর্মের জন্য লড়াই করতে হয়। এটিই হলো প্রকৃত সমাজ সংস্কার।