॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ২৭ ॥

প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ ।
অহঙ্কারবিমুঢ়াত্মা কর্তাঽহমিতি মন্যতে ॥ ৩.২৭ ॥

সরল ভাবার্থ

প্রকৃতির গুণসমূহের (সত্ত্ব, রজ, তম) দ্বারা সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু অহংকারে মোহাচ্ছন্ন ব্যক্তি নিজেকে সেই কাজের 'কর্তা' মনে করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি অহংকার দূর করার জন্য গীতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শ্লোক। আমরা যখন কোনো কাজ করি, তখন ভাবি—আমি করেছি। কিন্তু গভীরভাবে বিচার করলে দেখা যায়, আমাদের শরীর ও মন প্রকৃতির তিনটি গুণের দ্বারা চালিত। আমাদের খিদে পায়, আমরা কথা বলি, আমরা রাগি—এই সব কিছুই প্রকৃতির খেলা। আমরা কেবল একটি যন্ত্রের মতো কাজ করছি।

অহংকারী মানুষ মনে করে তার বুদ্ধি বা শক্তিতেই সব হচ্ছে। কিন্তু সে জানে না যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন পর্যন্ত কোনো কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা যখন নিজেকে 'কর্তা' ভাবি, তখন সেই কাজের ভালো-মন্দের দায়ভার আমাদের ওপর চলে আসে, ফলে আমরা অশান্তিতে ভুগি।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো নিজেকে চেনার শিক্ষা। যখন আমি বুঝব যে প্রকৃতিই কাজ করিয়ে নিচ্ছে এবং আমি কেবল সাক্ষী বা ভগবানের হাতের যন্ত্র, তখন আমার মনে কোনো চাপ থাকবে না। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, তুমি ভাবছ তুমি ভীষ্ম বা দ্রোণকে মারছ, কিন্তু আসলে প্রকৃতিই তাদের মৃত্যুর সময় নিয়ে এসেছে। তুমি কেবল নিমিত্ত মাত্র। এই বোধটি মানুষকে অসম্ভব মানসিক শান্তি দেয় এবং কাজের ভার হালকা করে দেয়।