সরল ভাবার্থ
হে মহাবাহো! যিনি গুণ এবং কর্মের বিভাগ সম্পর্কে প্রকৃত সত্য জানেন, তিনি বোঝেন যে ইন্দ্রিয়সমূহ (গুণসমূহ) কেবল নিজ নিজ বিষয়ে বিচরণ করছে। এই সত্য জেনে তিনি আর আসক্ত হন না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
আগের শ্লোকে অজ্ঞ ব্যক্তির কথা বলার পর, এখানে শ্রীকৃষ্ণ 'তত্ত্ববিদ' বা জ্ঞানীর কথা বলছেন। জ্ঞানী ব্যক্তি জানেন যে তাঁর ভেতরে যে তিনটি গুণ (সত্ত্ব, রজ, তম) আছে, তারাই বাইরের বিষয়ের সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে। যেমন, চোখ (ইন্দ্রিয়) সুন্দর কিছু দেখছে—এটা হলো গুণের খেলা। জ্ঞানী ব্যক্তি এর মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন না। তিনি কেবল একজন দর্শক।
'গুণা গুণেষু বর্তন্তে'—এই কথাটির গভীর তাৎপর্য হলো, শরীর ও মন প্রকৃতির অংশ, তাই তারা কাজ করবেই। কিন্তু 'আমি' বা 'আত্মা' হলো প্রকৃতির ঊর্ধ্বে। জ্ঞানী ব্যক্তি এই পার্থক্যটি বোঝেন। তিনি জানেন যে রাগ হলে সেটি মনের ধর্ম, কিন্তু আত্মা কখনো রাগে না। ফলে তিনি ঝড়ের মাঝেও শান্ত থাকতে পারেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'অনাসক্তি'র চূড়ান্ত দর্শন। আমরা যখন কাজের সাথে নিজেকে এক করে ফেলি, তখন কাজ ভালো হলে আমরা হাসি আর খারাপ হলে কাঁদি। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি জানেন যে এই সব কিছুই মহাজাগতিক এক প্রক্রিয়া। তিনি কাজ করেন অত্যন্ত নিপুণভাবে, কিন্তু তাঁর মন থাকে সর্বদা ভগবানে। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, তুমিও যদি এই তত্ত্ব বোঝো, তবে যুদ্ধের হিংসা তোমাকে স্পর্শ করবে না। তুমি কেবল তোমার শরীর দিয়ে লড়াই করবে, কিন্তু তোমার আত্মা থাকবে অবিচলিত।