সরল ভাবার্থ
প্রকৃতির গুণসমূহের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন ব্যক্তিরা কর্ম ও ফলের প্রতি আসক্ত থাকে। সেই স্বল্পজ্ঞানী ও মন্দবুদ্ধি ব্যক্তিদের পূর্ণজ্ঞানী ব্যক্তিরা যেন বিচলিত না করেন (বরং ধৈর্য ধরে তাদের পথ দেখান)।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে জ্ঞানীদের প্রতি সহমর্মিতা এবং ধৈর্যের নির্দেশ দিচ্ছেন। জগতে অধিকাংশ মানুষই 'স্বল্পজ্ঞানী'। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে কেবল টাকা বা বিলাসিতার জন্য। তাদের আধ্যাত্মিক বড় বড় কথা বললে তারা বুঝবে না, বরং ভয় পাবে। ভগবান বলছেন, পূর্ণজ্ঞানী ব্যক্তিকে হতে হবে ধৈর্যশীল। তিনি যেন তাদের হঠাৎ করে কাজ ছাড়িয়ে সন্ন্যাস দিতে না যান।
এটি একটি বড় সামাজিক শিক্ষা। প্রতিটি মানুষের উত্তরণের গতি আলাদা। একজন শিশুকে আপনি হুট করে স্নাতক স্তরের অংক শেখাতে পারেন না। তাকে হাতেখড়ি দিয়ে শুরু করতে হয়। তেমনি, যারা কর্মে আসক্ত, তাদের কর্মের মাধ্যমেই ঈশ্বরে ভক্তি আনতে শেখাতে হবে। তাদের কঠোরভাবে নিন্দা করলে তারা ধর্ম থেকেই দূরে সরে যাবে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো পরমেশ্বরের করুণার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জানেন যে আমরা সবাই মায়ার জালে বন্দি। কিন্তু তিনি আমাদের হঠাৎ ধ্বংস করে দেন না। তিনি আমাদের বারবার সুযোগ দেন নিজের ভুল শোধরানোর। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, তুমি অনেক কিছু জানো, কিন্তু যারা জানে না তাদের ওপর বিরক্ত হয়ো না। বরং তোমার বীরত্ব ও ন্যায়ের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা দাও। জ্ঞানী ব্যক্তিকে হতে হবে সমাজের একজন মমতাময়ী পিতার মতো।