সরল ভাবার্থ
অতএব, অধ্যাত্মচিত্তে তোমার সমস্ত কর্ম আমাকে অর্পণ করো। এরপর আকাঙ্ক্ষাশূন্য, মমত্ববোধহীন এবং শোকমুক্ত হয়ে যুদ্ধ করো।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি হলো অর্জুনের প্রতি কৃষ্ণের চূড়ান্ত নির্দেশ এবং কর্মযোগের সারকথা। শ্রীকৃষ্ণ এখানে তিনটি স্পষ্ট শর্ত দিচ্ছেন—১. 'নিরাশীঃ' (আকাঙ্ক্ষাহীন), ২. 'নির্মমঃ' (আমার-আমার বোধ ত্যাগ করা) এবং ৩. 'বিগতজ্বরঃ' (মানসিক যন্ত্রণা বা ভয় থেকে মুক্ত হওয়া)। ভগবান বলছেন, তুমি যা কিছু করছ তা আমাকে উৎসর্গ করো। মনে করো তুমি আমার জন্য এই কাজ করছ।
এই শ্লোকটি আমাদের 'সবার ওপর ভগবান'-কে রাখার শিক্ষা দেয়। আমরা যখন অফিসে কাজ করি বা ঘরে কাজ করি, আমরা যদি ভাবি যে আমি কৃষ্ণের সেবক হিসেবে এটি করছি, তবে সেই কাজ আর সাধারণ কাজ থাকে না, সেটি 'পূজা' হয়ে যায়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, তুমি শোক করছ কারণ তুমি ভাবছ তুমি তোমার আত্মীয়দের মারছ। কিন্তু যদি তুমি ভাবো যে তুমি আমার আদেশে ধর্ম রক্ষার জন্য লড়াই করছ, তবে তোমার আর কোনো ভয় থাকবে না।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো পূর্ণ আত্মসমর্পণের পথ। যখন আমরা ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হই, তখনই আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারি। 'বিগতজ্বরঃ' মানে হলো মনের জ্বর বা অস্থিরতা দূর করা। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, কোনো চিন্তা করো না, কেবল কর্ম করে যাও। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবন যুদ্ধের ময়দানে আমাদের সেরা অস্ত্র হলো ভগবানে বিশ্বাস এবং আসক্তিহীন কর্তব্য পালন। এটিই হলো শান্তির একমাত্র পথ।