সরল ভাবার্থ
যে সমস্ত মানুষ অসূয়াশূন্য (ঈর্ষামুক্ত) এবং শ্রদ্ধাবান হয়ে সর্বদা আমার এই মত (উপদেশ) অনুসরণ করেন, তাঁরাও সমস্ত কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে একটি মহৎ আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে, কেবল জ্ঞানীরাই মুক্তি পান না, সাধারণ মানুষও যদি শ্রদ্ধার সাথে এই কর্মযোগের পথ অনুসরণ করে, তবে তারাও মুক্ত হতে পারে। এখানে দুটি গুণের কথা বলা হয়েছে— 'শ্রদ্ধা' এবং 'অনসূয়া'। শ্রদ্ধা মানে ভগবানের বাক্যে বিশ্বাস, আর অসূয়া মানে হলো দোষ না খোঁজা বা ঈর্ষা না করা।
অনেক সময় মানুষ ঈশ্বরের উপদেশেও খুঁত বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু যে সরল মনে বিশ্বাস করে যে আমার কাজগুলো যদি আমি ঈশ্বরকে অর্পণ করি তবেই আমার কল্যাণ হবে, সেই ব্যক্তি ধীরে ধীরে পবিত্র হতে থাকে। কর্ম আমাদের তখনই বাঁধে যখন আমরা অহংকার নিয়ে কাজ করি। কিন্তু যখন আমরা বলি হে কৃষ্ণ, এটি তোমার কাজ, তখন সেই কর্মের দায়ভার ভগবানের ওপর চলে যায়।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো ভক্তি ও কর্মের সমন্বয়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, তুমি যদি কোনো সংশয় না রেখে আমার কথা শুনে যুদ্ধ করো, তবে এই যুদ্ধের রক্তপাত তোমাকে স্পর্শ করবে না। এটি আধুনিক মানুষের জন্যও প্রাসঙ্গিক—আমরা যদি আমাদের জীবনকে ভগবানের সেবায় নিয়োজিত করি, তবে জাগতিক দুশ্চিন্তা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। বিশ্বাসই হলো আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রথম সোপান।