॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ৩২ ॥

যে ত্বেতদভ্যসূয়ন্তো নানুতিষ্ঠন্তি মে মতম্ ।
সর্বজ্ঞানবিমুঢ়াংস্তান বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ ॥ ৩.৩২ ॥

সরল ভাবার্থ

কিন্তু যারা অসূয়াগ্রস্ত হয়ে (ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে) আমার এই উপদেশ পালন করে না, সেই বিবেকহীনদের সমস্ত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত এবং অধঃপতিত বলে জানবে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে সেই সব মানুষের পরিণতি বর্ণনা করেছেন যারা অহংকারবশত ধর্মের পথ প্রত্যাখ্যান করে। যারা মনে করে যে তারা নিজেরাই সব জানে এবং ঈশ্বরের উপদেশের কোনো প্রয়োজন নেই, তারা আসলে নিজেদের পরম কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করে। শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের 'সর্বজ্ঞানবিমূঢ়' বা সব দিক থেকে মূর্খ বলে অভিহিত করেছেন।

কেন তারা মূর্খ? কারণ তারা জীবনের মূল নিয়মটিই বুঝতে পারছে না। আমরা প্রকৃতির অধীন হয়েও ভাবি আমরা স্বাধীন। এই ভ্রান্ত ধারণা মানুষকে আরও বেশি মায়ার জালে জড়িয়ে ফেলে। 'নষ্টান' মানে হলো তারা আত্মার অপমৃত্যু ঘটাচ্ছে। তারা কেবল দেহের সুখকেই চরম সত্য মনে করে এবং শেষ পর্যন্ত এক গভীর শূন্যতায় নিমজ্জিত হয়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো সত্যকে অস্বীকার করার পরিণাম। অর্জুন যদি আজ কৃষ্ণের উপদেশ না শুনে নিজের মনের দুর্বলতাকে 'ধর্ম' বলে চালিয়ে দেন, তবে তিনিও অধঃপতিত হবেন। এই শ্লোকটি আমাদের অহংকার ত্যাগের শিক্ষা দেয়। যখন আমরা ভাবি যে আমিই সব বুঝি এবং ধর্মের নিয়মগুলো সেকেলে, তখনই আমাদের পতন শুরু হয়। প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই যে সৃষ্টির নিয়ম এবং ভগবানের নির্দেশকে মান্যতা দেয়।