॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ৩৩ ॥

সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতেজ্ঞানবানপি ।
প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি ॥ ৩.৩৩ ॥

সরল ভাবার্থ

এমনকি জ্ঞানী ব্যক্তিও নিজ স্বভাব বা প্রকৃতির অনুরূপ কাজ করেন। সমস্ত প্রাণীই নিজের স্বভাবের অনুগামী; এমতাবস্থায় ইন্দ্রিয় নিগ্রহ করে কী লাভ হবে?

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার অত্যন্ত গভীর একটি মনস্তাত্ত্বিক সত্য। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে মানুষের 'প্রকৃতি' বা জন্মগত স্বভাব খুব শক্তিশালী। আমরা হাজার চেষ্টা করলেও রাতারাতি আমাদের স্বভাব বদলে ফেলতে পারি না। এমনকি একজন জ্ঞানী ব্যক্তিও তাঁর স্বভাব অনুযায়ী কাজ করেন। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে—তাহলে কি আমরা আমাদের অভ্যাসের দাস?

আসলে কৃষ্ণ বোঝাতে চাইছেন যে জোর করে নিজেকে দমন করা (যেমন খাবার ইচ্ছা হলে না খেয়ে থাকা) দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। যদি আপনার স্বভাব হয় বীরের, তবে আপনি জোর করে শান্ত হয়ে বনে বসে থাকতে পারবেন না। আপনার ভেতরের সেই 'প্রকৃতি' আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেবেই। তাই 'নিগ্রহ' বা জোরপূর্বক দমন করার চেয়ে স্বভাবকে সঠিক পথে চালনা করা জরুরি।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'স্বধর্ম' পালনের যুক্তি। অর্জুনের স্বভাব হলো ক্ষত্রিয় বা যোদ্ধা। তিনি যদি ভাবেন যে তিনি সন্ন্যাসী হয়ে শান্ত হয়ে যাবেন, তবে তা হবে কৃত্রিম। তাঁর ভেতরের যোদ্ধা প্রকৃতি তাঁকে শান্ত থাকতে দেবে না। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে নিজেকে চেনা খুব দরকার। আমরা কে, আমাদের শক্তি ও দুর্বলতা কী—তা বুঝে যদি আমরা কাজ করি, তবেই আমরা সফল হবো। প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে প্রকৃতিকে শুদ্ধ করাই হলো জীবনের লক্ষ্য।