সরল ভাবার্থ
প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ের প্রতি রাগ (আসক্তি) এবং দ্বেষ (বিদ্বেষ) আগে থেকেই নিহিত থাকে। মানুষের উচিত এই দুইটির বশীভূত না হওয়া, কারণ এরা মুক্তির পথে প্রধান শত্রু বা পরিপন্থী।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
আগের শ্লোকে বলা হয়েছে স্বভাবের কথা, আর এখানে বলা হয়েছে সেই স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়ের কথা। আমাদের চোখ সুন্দর কিছু দেখতে ভালোবাসে (রাগ), আর যা ভালো লাগে না তার প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ তৈরি করে (দ্বেষ)। এই পছন্দ-অপছন্দের চক্রই আমাদের অশান্তির মূল কারণ। শ্রীকৃষ্ণ সতর্ক করছেন যে—খবরদার, এই 'রাগ' এবং 'দ্বেষ'-এর বশে কাজ কোরো না।
আমরা যখন কোনো কাজ করি কেবল এটি আমার ভালো লাগে বলে, অথবা কোনো কাজ এড়িয়ে যাই এটি আমার অপছন্দ বলে, তখন আমরা পরাধীন হয়ে পড়ি। প্রকৃত কর্মযোগী সেই যে তাঁর ভালো লাগা বা মন্দ লাগার ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর কর্তব্য পালন করে। অর্জুনের যুদ্ধ করতে 'ভালো লাগছে না' (দ্বেষ), কিন্তু তাঁর 'কর্তব্য' হলো যুদ্ধ করা।
ধর্মীয় বিচারে, রাগ-দ্বেষ হলো আমাদের আত্মার প্রধান শত্রু। এরা আমাদের বুদ্ধিকে হরণ করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যে তোমার স্বভাব তোমাকে দিয়ে কাজ করাবে ঠিকই, কিন্তু সেই কাজের পেছনে যদি তোমার ব্যক্তিগত ঘৃণা বা অতি-আসক্তি থাকে, তবে তুমি পাপে জড়াবে। নিজের মনকে এই দুই চরম ভাব থেকে দূরে রাখা এবং স্থির থাকাই হলো সাধনা। এটিই হলো ইন্দ্রিয় জয়ের প্রথম পদক্ষেপ।