সরল ভাবার্থ
অর্জুন বললেন—হে কৃষ্ণ! মানুষ ইচ্ছা না থাকলেও কার দ্বারা প্ররোচিত হয়ে পাপ কাজ করে? মনে হয় যেন কেউ তাকে জোর করে বা বলপূর্বক সেই কাজে নিয়োজিত করছে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি আমাদের সবার মনের প্রশ্ন। আমরা অনেক সময় জানি যে কোনো একটি কাজ ভুল, তবুও আমরা সেটি করে ফেলি। অর্জুন এখানে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি সমস্যা উত্থাপন করেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে মানুষ হয়তো ধার্মিক হতে চায়, ভালো থাকতে চায়, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাকে ভুল পথে টেনে নিয়ে যায়। সে যেন নিজের ইচ্ছার মালিক হতে পারে না।
অর্জুন কৃষ্ণকে ডাকছেন 'বার্ষ্ণেয়' বলে। তিনি জানতে চাচ্ছেন—সেই শত্রু কে? অনেক সময় মানুষ ভাবে আমি ভালো হতে চাই, কিন্তু পরক্ষণেই সে অন্যের নিন্দা করে বা লোভ করে বসে। কেন এমন হয়? আমাদের মনের ভেতর কি কোনো দানব আছে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে?
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো আত্মবিশ্লেষণের শুরু। আমরা বাইরে শত্রু খুঁজি, কিন্তু আসল শত্রু আমাদের ভেতরেই বাস করে। এই প্রশ্নের মাধ্যমেই ৩ নম্বর অধ্যায়ের শেষ অংশের আলোচনার সূত্রপাত ঘটে, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ 'কাম' বা বাসনাকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করবেন। অর্জুনের এই প্রশ্নটি প্রমাণ করে যে তিনি কেবল নিজের যুদ্ধের কথা ভাবছেন না, তিনি সামগ্রিকভাবে মানুষের নৈতিক কষ্টের কথা ভাবছেন। এটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে প্রথম বাধা হলো আমাদের মনের সেই রহস্যময় প্রবৃত্তিগুলো যা আমাদের বিপথে টানে। এই বাধা চিনতে পারাই হলো জয়ের প্রথম ধাপ।