॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ৩৭ ॥

শ্রীভগবানুবাচ ।
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ ।
মহাশনো মহাপাপ্মা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্ ॥ ৩.৩৭ ॥

সরল ভাবার্থ

শ্রীভগবান বললেন—রজোগুণ থেকে উৎপন্ন এই 'কাম'-ই (তীব্র বাসনা) হলো মানুষের প্রধান শত্রু। এই কামই অতৃপ্ত হলে ক্রোধে রূপান্তরিত হয়। একে সর্বগ্রাসী ও চরম পাপাচারী শত্রু বলে জানবে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ জীবনের শ্রেষ্ঠ শত্রুটিকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলছেন, এটি হলো 'কাম'। এখানে কাম মানে কেবল যৌন লালসা নয়, বরং যে কোনো জাগতিক বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত ক্ষুধা বা তৃষ্ণা। এটি রজোগুণ থেকে জন্মায়। কামের ধর্ম হলো সে কখনও মেটে না—বরং যত মেটানো হয়, আগুনের ঘি ঢালার মতো সে আরও বেড়ে যায় (মহাশনঃ)।

যখন মানুষের কোনো ইচ্ছা বা কাম পূরণ হয় না, তখনই তা 'ক্রোধে' পরিণত হয়। তাই রাগ হলো কামেরই একটি রূপ। শ্রীকৃষ্ণ একে 'মহাপাপ্মা' বলেছেন কারণ এই কামের বশেই মানুষ মিথ্যা বলে, চুরি করে বা অধর্ম করে। এটি মানুষের বিচারবুদ্ধি গ্রাস করে ফেলে।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো আত্মিক পতনের মূল কারণ। আমরা বাইরে অনেক শত্রু খুঁজি, কিন্তু আসল শত্রু আমাদের মনের ভেতরেই বসে আছে। এটি একটি রাক্ষসের মতো যা আমাদের শান্তি ও সুখ খেয়ে ফেলে। অর্জুনকে কৃষ্ণ সাবধান করছেন যে, যুদ্ধের বাইরের শত্রুর চেয়ে এই ভেতরের কামকে চেনা বেশি জরুরি। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জীবন বিষময় হয়ে ওঠে।