॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ৪১ ॥

তস্মাত্ত্বমিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ নিয়ম্য ভরতর্ষভ ।
পাপ্মানং প্রজহি হ্যেনং জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্ ॥ ৩.৪১ ॥

সরল ভাবার্থ

অতএব, হে ভরতশ্রেষ্ঠ! তুমি প্রথমেই ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করো। এরপর এই জ্ঞান ও বিজ্ঞান (আধ্যাত্মিক অনুভব) বিনাশকারী পাপিষ্ঠ কামকে সমূলে বিনাশ করো।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে শ্রীকৃষ্ণ সরাসরি যুদ্ধের আদেশ দিচ্ছেন—ভেতরের শত্রুর বিরুদ্ধে। তিনি কৌশলী সেনাপতির মতো বলছেন, শত্রুকে মারার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তার সাপ্লাই চেইন বন্ধ করা। কামের সাপ্লাই হলো ইন্দ্রিয়। তাই ইন্দ্রিয় জয়ই হলো প্রথম কাজ।

কাম কেবল জাগতিক ক্ষতি করে না, সে 'জ্ঞান' (শাস্ত্রীয় জ্ঞান) এবং 'বিজ্ঞান' (নিজের ঈশ্বরীয় অনুভব)—এই দুটিই কেড়ে নেয়। যখন কেউ কামের বশে থাকে, সে সত্য জানে কিন্তু সত্য অনুভব করতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, তুমি ক্ষত্রিয়, তাই এই পাপিষ্ঠকে মেরে ফেলা তোমার কর্তব্য।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'ইন্দ্রিয় সংযম'-এর গুরুত্ব। আমরা যদি আমাদের চোখ, কান ও জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, তবে কাম আমাদের ভেতরে বাসা বাঁধতে পারবে না। এটি কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন এটিই একমাত্র পথ। এটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে কেবল মালা জপ করা নয়, বরং নিজের প্রবৃত্তিগুলোর বিরুদ্ধে সচেতন সংগ্রাম করা। পাপিষ্ঠ কামকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে নিজের আত্মাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।