॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ৪২ ॥

ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ ।
মনসস্তু পরা বুদ্ধির্য়ো বুদ্ধের্পরতস্তু সঃ ॥ ৩.৪২ ॥

সরল ভাবার্থ

জড় দেহাংশগুলোর চেয়ে ইন্দ্রিয়সমূহ শ্রেষ্ঠ; ইন্দ্রিয়গুলোর চেয়ে মন শ্রেষ্ঠ; মনের চেয়ে বুদ্ধি শ্রেষ্ঠ এবং যিনি বুদ্ধিরও অতীত, তিনিই হলেন 'আত্মা'।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এই শ্লোকটি মানুষের অস্তিত্বের এক সূক্ষ্ম শ্রেণীবিন্যাস (Hierarchy) বর্ণনা করে। কেন আমরা কামের কাছে হেরে যাই? কারণ আমরা নিজেদের স্তর জানি না।

১. দেহ: এটি নিছক রক্ত-মাংস। এর চেয়ে শক্তিশালী হলো ইন্দ্রিয় (যা দেহকে চালিত করে)। ২. মন: ইন্দ্রিয়গুলোর লাগাম হলো মন। মন চাইলে তবেই ইন্দ্রিয় কাজ করে। ৩. বুদ্ধি: মন যা করতে চায়, বুদ্ধি বিচার করে তা করবে কি না। তাই বুদ্ধি আরও শক্তিশালী। ৪. আত্মা: সবশেষে আছেন আত্মা। তিনি সবার রাজা।

কাম এই সিঁড়ি বেয়ে নিচ থেকে উপরে আক্রমণ করে। শ্রীকৃষ্ণ বোঝাচ্ছেন যে, আমরা যদি দেহ বা মন স্তরে থাকি, তবে আমরা কামের কাছে হারবই। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের 'আত্মা' হিসেবে চিনতে পারি, তবে বুদ্ধি, মন আর ইন্দ্রিয়গুলো আমাদের দাসে পরিণত হবে।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো আত্মজ্ঞানের ভিত্তি। ভগবান অর্জুনকে তার আসল শক্তি মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তুমি শরীর নও, তুমি মন নও—তুমি অবিনাশী আত্মা। রাজার শক্তি যেমন সেনাপতির চেয়ে বেশি, আত্মার শক্তি তেমনি বুদ্ধির চেয়ে বেশি। এই শক্তি অনুভব করতে পারলে কামের মতো তুচ্ছ শত্রুকে হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।