সরল ভাবার্থ
হে মহাবাহো! এভাবে নিজেকে বুদ্ধির অতীত (আত্মা) হিসেবে জেনে এবং আধ্যাত্মিক শক্তির দ্বারা নিজের মনকে স্থির করে সেই দুর্জয় কামরূপ শত্রুকে বিনাশ করো।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি ৩ নম্বর অধ্যায়—'কর্মযোগ'-এর সমাপ্তি শ্লোক। শ্রীকৃষ্ণ এখানে যুদ্ধের চূড়ান্ত রণধ্বনি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলছেন, হে মহাবাহো (বিশাল শক্তিশালী)! তোমার ভেতরের আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করো। নিজেকে আত্মার স্তরে নিয়ে গেলে মন আপনাআপনি শান্ত হয়। তখন 'কাম' আর আমাদের ওপর আধিপত্য করতে পারে না।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা কোনো দুর্বলতা নয়, এটি চরম বীরত্ব। কামকে 'দুরাসদম্' বলা হয়েছে কারণ নিজের শক্তিতে একে হারানো কঠিন, কিন্তু ভগবানের চেতনায় যুক্ত হয়ে একে হারানো সম্ভব। কর্মযোগের মূল কথা হলো—সব কাজ করো, কিন্তু নিজেকে ভগবানের হাতের যন্ত্র মনে করো এবং ফলের প্রতি লোভ কোরো না। এই ত্যাগই কামকে মেরে ফেলে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি অর্জুনের বিষাদ কাটানোর শেষ চাবিকাঠি। অর্জুন বুঝতে পেরেছেন যে বাইরের যুদ্ধ আসলে ভেতরের যুদ্ধেরই প্রতিফলন। এই অধ্যায়ের শেষে আমরা শিখলাম যে কাজ না করা নয়, বরং আসক্তিহীনভাবে কাজ করাই হলো মুক্তির পথ।
॥ ইতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে কর্ময়োগো নাম তৃতীয়োঽধ্যায়ঃ ॥