॥ অধ্যায় ৩, শ্লোক ৮ ॥

নিয়তং কুরু কর্ম ত্বং কর্ম জ্যায়ো হ্যকর্মণঃ ।
শরীরযাত্রা পি চ তে ন প্রসিধ্যেদকর্মণঃ ॥ ৩.৮ ॥

সরল ভাবার্থ

তুমি তোমার শাস্ত্রবিহিত কর্তব্য কর্ম করো; কারণ কর্ম না করা অপেক্ষা কর্ম করা অনেক শ্রেয়। এমনকি কাজ না করলে তোমার শরীরযাত্রাও (জীবন ধারণ) নির্বাহ হবে না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে কর্মের এক অত্যন্ত বাস্তবসম্মত যুক্তি দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে, নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকার চেয়ে কাজ করা সবসময়ই ভালো। অর্জুন যে ভাবছেন তিনি কিছু করবেন না, তা কেবল আধ্যাত্মিকভাবে ভুল নয়, শারীরিকভাবেও অসম্ভব। কৃষ্ণ খুব সহজ করে বলছেন যে, তুমি যদি কর্ম না করো তবে তোমার এই শরীরটা টিকবে কীভাবে? খাওয়ার জন্য অন্ন জোগাড় করা, শরীর রক্ষা করা—এগুলোও তো কর্ম।

'নিয়তং কর্ম' মানে হলো অর্পিত দায়িত্ব। একজন ছাত্রের জন্য পড়াশোনা, একজন সৈনিকের জন্য যুদ্ধ, একজন পিতার জন্য পরিবার পালন—এগুলোই হলো নিয়ত কর্ম। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে কর্ম ত্যাগ করা কোনো বীরত্ব নয়। বরং কর্মের মাধ্যমে নিজেকে শুদ্ধ করাই হলো মানুষের লক্ষ্য। কর্ম না করলে মানুষের মন অলস হয়ে যায় এবং সেই অলস মন শয়তানের আড্ডাখানায় পরিণত হয়।

ধর্মীয় বিচারে, এই শরীর হলো ভগবানের দেওয়া একটি যন্ত্র। এই যন্ত্রটিকে সচল রাখাই হলো ভগবানের সেবা। যদি আমরা আলসেমি করে বসে থাকি, তবে আমরা এই শরীররূপ মন্দিরের অপমান করি। শ্রীকৃষ্ণ এখানে আমাদের কর্মঠ হওয়ার প্রেরণা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে, আধ্যাত্মিকতা মানে অলসতা নয়; আধ্যাত্মিকতা মানে হলো দ্বিগুণ উৎসাহে নিজের দায়িত্ব পালন করা। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ছোট থেকে ছোট কাজও যদি কর্তব্যবোধে করা হয়, তবে তা উপাসনায় রূপান্তরিত হয়। জীবনকে সচল রাখাই হলো ধর্মের প্রধান অঙ্গ।