॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ১১ ॥

যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্ ।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥ ৪.১১ ॥

সরল ভাবার্থ

যে আমাকে যেভাবে ভজনা করে (বা যার যে ভাব), আমি তাকে সেভাবেই অনুগ্রহ করি। হে পার্থ! সমস্ত মানুষই সব দিক থেকে আমারই পথ অনুসরণ করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার এক পরম উদারতার বাণী। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট উপাসনা পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। যে ভক্ত তাঁকে যেভাবে দেখতে চায়, তিনি তার কাছে সেভাবেই ধরা দেন। কেউ যদি তাঁকে বন্ধু হিসেবে চায়, তিনি বন্ধু; কেউ যদি সন্তান হিসেবে চায় (যেমন যশোদা মা), তিনি সন্তান; আবার কেউ যদি তাঁকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি হিসেবে ভয় ও শ্রদ্ধার সাথে দেখে, তিনি তাঁর কাছে তেমনই।

এই শ্লোকটি হিন্দু ধর্মের বহুত্বের মূলে আঘাত করে—সব পথই শেষ পর্যন্ত এক ঈশ্বরের দিকে যায়। বৃষ্টির জল যেমন বিভিন্ন পাত্রে পড়লে সেই পাত্রের আকার ধারণ করে, ভগবানের কৃপাও ভক্তের হৃদয়ের ভাব অনুযায়ী প্রকাশিত হয়। 'মম বর্ত্মানুবর্তন্তে'—অর্থাৎ মানুষ অবচেতনভাবে বা সচেতনভাবে যে কাজই করুক, তারা শেষ পর্যন্ত সেই পরম সত্যেরই খোঁজ করছে। কেউ হয়তো টাকার পেছনে ছুটছে, কেউ ক্ষমতার—আসলে তারা সবাই সেই চিরস্থায়ী আনন্দের সন্ধান করছে যা কেবল ঈশ্বরের কাছে পাওয়া যায়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি শ্রীকৃষ্ণের নিরপেক্ষতার প্রমাণ। তিনি বলছেন, আমি কারও প্রতি রাগ করি না বা কাউকে আলাদা করে ভালোবাসি না; যে যতটুকু আত্মসমর্পণ করে, সে ততটুকু উত্তর পায়। এটি আধুনিক জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা যেন অন্যের উপাসনা পদ্ধতি নিয়ে বিবাদ না করি, কারণ শেষ পর্যন্ত সবাই একই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইছে। অর্জুনকে কৃষ্ণ অভয় দিচ্ছেন যে, তুমি যদি আজ ক্ষত্রিয় হিসেবে আমাকে ভজনা করো, তবে সেই পথেই তুমি আমাকে পাবে।