॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ১৪ ॥

ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা ।
ইতি মাং যোঽভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে ॥ ৪.১৪ ॥

সরল ভাবার্থ

কোনো কর্মই আমাকে লিপ্ত করতে পারে না এবং কর্মফলের প্রতিও আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। যারা আমার এই স্বরূপটি তত্ত্বত অবগত হন, তাঁরাও কর্মবন্ধনে আবদ্ধ হন না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে শ্রীকৃষ্ণ আমাদের কর্ম করার শ্রেষ্ঠ কৌশলটি শিখিয়ে দিচ্ছেন। আমরা যখন কোনো কাজ করি, তখন আমরা সেই কাজের ফলের সাথে জড়িয়ে পড়ি। ভালো ফল হলে আমরা আনন্দিত হই, খারাপ হলে আমরা ভেঙে পড়ি। এই জড়িয়ে পড়াই হলো 'কর্মবন্ধন'। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন, তাঁর কোনো ফলের আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি জগত সৃষ্টি করেন, পালন করেন—কিন্তু তিনি এর মালিকানা দাবি করেন না।

এটি একটি চমৎকার উদাহরণ—পদ্মপাতা যেমন জলে থাকে কিন্তু জল তাকে ভেজাতে পারে না, কৃষ্ণও তেমনি সংসারের সব কাজ করেও তাতে লিপ্ত হন না। যারা এই সত্যটি বোঝেন, তারাও মুক্তি পান। কেন? কারণ যখন আমি জানব যে আমার ভেতরের আত্মা আসলে কোনো কাজ করছে না, কাজ করছে আমার দেহ আর প্রকৃতি—তখন আমি আর ফলের দ্বারা ব্যথিত হব না।

ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো 'নিষ্কাম কর্ম'-এর চরম অবস্থা। ভগবান বলছেন, আমাকে অনুসরণ করো। আমি যেমন নিঃস্বার্থভাবে মহাবিশ্ব চালাচ্ছি, তুমিও তেমনি তোমার কর্তব্য পালন করো। যদি তুমি নিজের 'অহংকার' ছেড়ে দিয়ে কাজ করো, তবে সেই কাজের পাপ বা পুণ্য কোনোটাই তোমাকে স্পর্শ করবে না। অর্জুনকে এটি বলা হচ্ছে যাতে তিনি যুদ্ধের পরিণাম নিয়ে দুশ্চিন্তা না করেন। আমরাও যদি আমাদের প্রতিদিনের কাজগুলো ভগবানের সেবা হিসেবে করি এবং ফলের চিন্তা ছেড়ে দেই, তবে আমরাও জীবনের জটিলতা থেকে মুক্ত হতে পারব।