সরল ভাবার্থ
প্রাচীনকালের মুমুক্ষুগণ (মুক্তিপ্রত্যাশীগণ) এই তত্ত্ব জ্ঞাত হয়েই কর্ম করে গেছেন। অতএব, তুমিও সেই পূর্বপুরুষদের অনুসৃত পথেই নিজের কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করো।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ইতিহাসের দোহাই দিচ্ছেন। অর্জুন হয়তো ভাবছিলেন যে কর্ম ত্যাগ করে সন্ন্যাস নেওয়াই হলো মুক্তির একমাত্র পথ। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন যে জনক রাজার মতো প্রাচীন মহাত্মারা এই 'নিষ্কাম কর্মযোগ' তত্ত্ব জেনেই কাজ করে গেছেন এবং মুক্তি পেয়েছেন।
আমাদের সবসময় মনে হয় যে আধ্যাত্মিকতা মানে হয়তো ঘরবাড়ি ছেড়ে বনে চলে যাওয়া। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—না, তোমার পূর্বপুরুষেরা রাজত্ব চালিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন, সংসার করেছেন—তবুও তারা মুক্ত ছিলেন। কেন? কারণ তারা জানতেন কীভাবে কাজ করেও অনাসক্ত থাকা যায়। 'পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্'—অর্থাৎ এই পথটি পরীক্ষিত এবং অতি প্রাচীন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমরা যখন কোনো নতুন কাজ করি, তখন আমাদের ভয় লাগে। কিন্তু যখন আমরা দেখি যে আমাদের পূর্বের মহাপুরুষেরা এই পথেই সফল হয়েছেন, তখন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, তুমি নতুন কিছু করছ না, তুমি কেবল তোমার বীর পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছ। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবন থেকে পালানো ধর্ম নয়, বরং জীবনের সব দায়িত্ব পালন করেও মনের দিক থেকে মুক্ত থাকাই হলো প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব। কাজকে উপাসনায় রূপান্তর করাই হলো বড় সাফল্য।