॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ১৭ ॥

কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যং চ বিকর্মণঃ ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ ॥ ৪.১৭ ॥

সরল ভাবার্থ

কর্মের স্বরূপ জানা উচিত, বিকর্মের (নিষিদ্ধ কর্ম) স্বরূপ জানা উচিত এবং অকর্মের স্বরূপও জানা উচিত। কারণ কর্মের গতি অত্যন্ত গহন বা রহস্যময়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে কর্মকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন এবং বলছেন যে এই তিনটির পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

১. কর্ম: শাস্ত্রবিহিত কর্তব্য কাজ। যা আমাদের স্বভাব এবং সমাজের জন্য কল্যাণকর। ২. বিকর্ম: নিষিদ্ধ বা মন্দ কাজ। যা অহংকার, লোভ বা ক্রোধের বশে করা হয় এবং যা অন্যের ক্ষতি করে। ৩. অকর্ম: এটিই সবচেয়ে রহস্যময়। এর অর্থ হলো কাজ করেও তার ফল বা বন্ধন থেকে মুক্ত থাকা।

'গহনা কর্মণো গতিঃ'—এই বাক্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা কর্মের ফলাফল বা তার জটিলতা পুরোপুরি বুঝতে পারি না। অনেক সময় আমরা মনে করি একটি ছোট কাজ কোনো প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু সেই কাজের ঢেউ অনেক দূর পর্যন্ত যায়। যেমন একটি ছোট্ট বীজের ভেতরে যেমন বিশাল বটগাছ লুকিয়ে থাকে, তেমনি আমাদের প্রতিটি কাজের ভেতরে ভবিষ্যৎ জন্ম বা পরিস্থিতির বীজ লুকিয়ে থাকে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের দায়িত্বশীল হতে শেখায়। আমরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারি না। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা আছে। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, তুমি যদি যুদ্ধ না করে পালিয়ে যাও, তবে সেটা হবে 'বিকর্ম' কারণ তুমি তোমার ক্ষত্রিয় ধর্ম ত্যাগ করছ। আবার যদি তুমি ফলের আশা ছেড়ে আমার জন্য যুদ্ধ করো, তবে সেটা হবে 'অকর্ম'। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি না বুঝলে মানুষ ধর্মের নামে অধর্ম করে ফেলে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সচেতন থাকাই হলো এই শ্লোকের মূল শিক্ষা।