সরল ভাবার্থ
যিনি কর্মের মধ্যে অকর্ম এবং অকর্মের মধ্যে কর্ম দর্শন করেন, তিনিই মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমান এবং তিনিই যোগী ও সমস্ত কর্মকারী হয়েও মুক্ত।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি গীতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বুদ্ধিদীপ্ত শ্লোক। এখানে একটি আপাতবিরোধী (Paradoxical) সত্য বলা হয়েছে।
কর্মের মধ্যে অকর্ম: একজন মানুষ বাইরে থেকে হয়তো অনেক কাজ করছেন—তিনি যুদ্ধ করছেন বা ব্যবসা করছেন। কিন্তু তাঁর অন্তরে যদি কোনো অহংকার না থাকে, যদি তিনি জানেন যে 'আমি করছি না, প্রকৃতি বা ঈশ্বর করাচ্ছেন', তবে সেই বিশাল কর্মের মাঝেও তিনি আসলে 'অকর্ম' করছেন। তাঁর আত্মা শান্ত ও নিষ্ক্রিয় থাকে।
অকর্মের মধ্যে কর্ম: আবার ধরুন কেউ আলস্যবশত বা লোকদেখানোভাবে চুপচাপ বসে আছেন। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে তিনি 'অকর্ম' করছেন। কিন্তু তাঁর মনের ভেতরে যদি কাম-ক্রোধ-বাসনার ঝড় চলে, তবে তিনি আসলে ঘোরতর 'কর্ম' করছেন এবং তার ফল তাঁকে ভোগ করতে হবে।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের বাহ্যিক আকার দেখে বিচার করতে নিষেধ করে। প্রকৃত বুদ্ধিমান বা যোগী সেই, যে নিজের কর্মের দায়ভার ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়ে শান্ত থাকে। যেমন সমুদ্রের ওপরের দিকে বিশাল ঢেউ থাকে (কর্ম), কিন্তু অতল গভীরে থাকে নিস্তব্ধ শান্তি (অকর্ম)। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, তুমি যদি এই দিব্য দৃষ্টি লাভ করো, তবে তুমি লক্ষ লক্ষ শত্রুকে বধ করেও কোনো পাপের ভাগী হবে না। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও কীভাবে ভেতরে একটি মন্দির বানিয়ে শান্ত থাকা যায়। এটিই হলো কর্মযোগের শিখর।