॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ১৯ ॥

যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পণ্ডিতং বুধাঃ ॥ ৪.১৯ ॥

সরল ভাবার্থ

যাঁর সমস্ত কাজ কাম (বাসনা) ও সংকল্প বর্জিত এবং যাঁর কর্মসমূহ জ্ঞানরূপ অগ্নি দ্বারা দগ্ধ হয়েছে, জ্ঞানীগণ তাঁকেই 'পণ্ডিত' বলে অভিহিত করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে প্রকৃত 'পণ্ডিত'-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান যুগে আমরা তাকেই পণ্ডিত বলি যার অনেক ডিগ্রি আছে। কিন্তু গীতা বলছে, পণ্ডিত তিনি যাঁর কাজগুলো 'কাম-সংকল্প' মুক্ত। অর্থাৎ তিনি কোনো ব্যক্তিগত ফলের আশা বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ শুরু করেন না।

সবচেয়ে শক্তিশালী উপমাটি হলো—'জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং'। জ্ঞান হলো আগুনের মতো। যখন আমরা আগুনে কোনো বীজ দিই, সেই বীজটি দেখতে আগের মতোই থাকে, কিন্তু তার থেকে আর নতুন চারা জন্মায় না। ঠিক তেমনি, একজন জ্ঞানীর কাজগুলো বাইরে থেকে সাধারণ কাজের মতোই মনে হয়, কিন্তু যেহেতু তাতে স্বার্থের কোনো বীজ নেই, তাই সেই কাজ থেকে নতুন কোনো জন্ম বা কর্মফল তৈরি হয় না।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের কাজের 'শুদ্ধিকরণ' পদ্ধতি। আমরা যখনই কোনো কাজ করি, আমাদের মনে একটি 'সংকল্প' থাকে—আমি এটা করলে ওটা পাবো। এই সংকল্পই আমাদের অশান্তির মূল। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, তুমি যুদ্ধ করো কিন্তু তোমার সংকল্প যেন নিজের রাজত্ব ভোগ করার না হয়, বরং ধর্ম রক্ষার হয়। যখন কাজের উদ্দেশ্য থেকে 'আমি' এবং 'আমার' ভাবটি পুড়ে যায়, তখনই সেই কাজ দিব্য হয়ে ওঠে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কাজ করা দোষের নয়, কাজের পেছনের সংকীর্ণ বাসনাই দোষের।