॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ২০ ॥

ত্যক্ত্বা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোঽপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ ॥ ৪.২০ ॥

সরল ভাবার্থ

যিনি কর্মফলের আসক্তি ত্যাগ করেছেন, যিনি সর্বদা তৃপ্ত এবং কোনো জাগতিক আশ্রয়ের ওপর নির্ভর করেন না, তিনি কর্মে লিপ্ত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে কিছুই করেন না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে একজন কর্মযোগীর তিনটি গুণের কথা বলা হয়েছে: ১. ,আসক্তিহীনতা: কাজের ফলের সাথে তাঁর কোনো মানসিক টান নেই। ২. নিত্যতৃপ্তি: তিনি বাইরে কী আছে তার ওপর নির্ভর করেন না, নিজের ভেতরেই তিনি আনন্দিত। ৩. নিরাশ্রয়: তিনি মনে করেন না যে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বা ব্যক্তি ছাড়া তাঁর জীবন চলবে না। তিনি কেবল পরমেশ্বরের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এমন একজন মানুষ যখন কাজ করেন, তখন তাঁর মধ্যে কোনো 'কর্তা' ভাব থাকে না। তিনি জানেন যে তিনি ঈশ্বরের হাতের যন্ত্র মাত্র। তাই তিনি কাজ করলেও তাঁর আত্মা সেই কাজের সাথে লিপ্ত হয় না। একে বলা হয় 'নৈষ্কর্ম্য'।

ধর্মীয় বিচারে, এটি চরম স্বাধীনতার ঘোষণা। আমরা যখন কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করি, তখন আমরা তার দাস হয়ে পড়ি। কিন্তু একজন যোগী যেহেতু কেবল ভগবানের ওপর নির্ভরশীল, তাই তিনি পৃথিবীর সমস্ত কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেও মানসিকভাবে মুক্ত থাকেন। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, তুমি যদি তোমার এই বীরত্বের ওপর বা তোমার ধুনকের ওপর নির্ভর না করে আমার ওপর নির্ভর করো, তবে তুমি যুদ্ধ করেও মুক্ত থাকবে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কর্ম আমাদের বাঁধে না, আমাদের 'আশা' এবং 'নির্ভরতা' আমাদের বাঁধে। নিত্যতৃপ্ত থাকা মানেই হলো ভগবানের সান্নিধ্য অনুভব করা।