সরল ভাবার্থ
যিনি আশাহীন (আকাঙ্ক্ষামুক্ত), যাঁর মন ও আত্মা সংযত এবং যিনি সমস্ত সঞ্চয় বা ভোগবুদ্ধি ত্যাগ করেছেন, তিনি কেবল শরীর রক্ষার জন্য কাজ করলেও কোনো পাপের ভাগী হন না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি জীবনের নূন্যতম প্রয়োজনের সাথে আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ঘটায়। এখানে শ্রীকৃষ্ণ তিনটি গুণের কথা বলেছেন:
১. নিরাশী: যাঁর কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নেই।
২. যতচিত্তাত্মা: যাঁর নিজের শরীর এবং মনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে।
৩. ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ: যিনি অহেতুক বস্তু সংগ্রহ করেন না।
এমন একজন মানুষ যখন কাজ করেন, তিনি কেবল 'শারীরং কর্ম' অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য বা জগতের কল্যাণের জন্য নূন্যতম কাজ করেন। তাঁর কাজের পেছনে কোনো লোভ বা অহংকার থাকে না। যেহেতু তাঁর মনে কোনো মন্দ অভিপ্রায় নেই, তাই তাঁর কাজের ফলে যদি কারোর অনিচ্ছাকৃত ক্ষতিও হয়, তবে সেই পাপ তাঁকে স্পর্শ করে না।
ধর্মীয় বিচারে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্জুন ভয় পাচ্ছিলেন যে গুরু ও আত্মীয়দের হত্যা করলে তাঁর নরকবাস হবে। কৃষ্ণ এখানে তাঁকে অভয় দিচ্ছেন যে—যদি তুমি ব্যক্তিগত লাভের জন্য যুদ্ধ না করো, যদি তুমি কেবল তোমার ক্ষত্রিয় দায়িত্ব (শারীরিক ও সামাজিক কর্ম) পালন করো, তবে কোনো পাপ বা 'কিল্বিষ' তোমাকে স্পর্শ করবে না। এটি আমাদের সাধারণ মানুষের জন্যও শিক্ষা—আমরা যদি আমাদের জীবনকে অহেতুক জটিল না করি এবং লোভ ত্যাগ করি, তবে জগতের কোনো জটিলতাই আমাদের অশান্ত করতে পারবে না। অল্পে তুষ্ট থাকা এবং ঈশ্বরে নিবিষ্ট থাকাই হলো এই শ্লোকের পরম সত্য।