সরল ভাবার্থ
যিনি আপনা-আপনি যা লাভ হয় তাতেই সন্তুষ্ট, যিনি সুখ-দুঃখ আদি দ্বন্দ্বের অতীত, যিনি ঈর্ষামুক্ত এবং সাফল্য ও ব্যর্থতায় সমভাবাপন্ন—এমন ব্যক্তি কর্ম করেও কর্মফলে আবদ্ধ হন না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে একজন আদর্শ কর্মযোগীর চারটি প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যা তাকে জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত রাখে:
১. যদৃচ্ছা-লাভ-সন্তুষ্ট: এর অর্থ হলো নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো প্রচেষ্টা বা লালসা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে যা জুটে যায়, তাতেই খুশি থাকা। এটি অলসতা নয়, বরং প্রাপ্তির ওপর মানসিক নির্ভরতা কমিয়ে দেওয়া।
২. দ্বন্দ্বাতীত: আমাদের জগত দ্বন্দ্বে ভরা—যেমন লাভ-ক্ষতি, মান-অপমান, শীত-উষ্ণ। যোগী ব্যক্তি জানেন এগুলো মনের বিলাস মাত্র, তাই তিনি এগুলোর দ্বারা বিচলিত হন না।
৩. বিমৎসর: অর্থাৎ ঈর্ষাহীনতা। অন্যের উন্নতি দেখে যিনি কষ্ট পান না এবং নিজের যা আছে তাতেই আনন্দ পান, তাঁর মন সবসময় শান্ত থাকে।
৪. সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ: কাজের ফল সফল হোক বা না হোক, যাঁর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয় না। তিনি জানেন কাজ করা তাঁর দায়িত্ব, কিন্তু ফল ঈশ্বরের হাতে।
ধর্মীয় বিচারে, এই মানসিকতা থাকলে মানুষ কর্মচক্রে আটকা পড়ে না। আমরা সাধারণত কর্ম করি ফলের আশায়, তাই ফল না পেলে আমরা ভেঙে পড়ি। কিন্তু অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, যদি তুমি এই মানসিকতা নিয়ে যুদ্ধ করো, তবে সেই যুদ্ধের রক্ত তোমাকে স্পর্শ করবে না। এটি আমাদের সাধারণ জীবনের জন্যও এক বিশাল শিক্ষা—শান্তি বাইরে নেই, শান্তি আছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে।