সরল ভাবার্থ
যিনি আসক্তিহীন, যিনি মুক্ত পুরুষ এবং যাঁর বুদ্ধি সর্বদা দিব্য জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, তাঁর যজ্ঞরূপী সমস্ত কর্ম সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায় (অর্থাৎ কোনো ফল উৎপন্ন করে না)।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি কর্মকে যজ্ঞে পরিণত করার কৌশল শেখায়। শ্রীকৃষ্ণ তিনটি স্তরের কথা বলেছেন:
১. গতসঙ্গস্য: যিনি আসক্তি ত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ কাজের প্রতি আমি করছি এই অহংকার নেই।
২. মুক্তস্য: যিনি রাগমুক্ত বা দ্বেষমুক্ত। যাঁর মন কোনো জাগতিক মায়ায় বাঁধা নেই।
৩. জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ: যাঁর চেতনা সর্বদা পরম সত্যে বা আত্মজ্ঞানে স্থির থাকে।
যখন একজন মানুষ এই স্তরে পৌঁছান এবং তাঁর সমস্ত কাজকে একটি যজ্ঞ বা ঈশ্বরের সেবা হিসেবে উৎসর্গ করেন, তখন তাঁর সেই কর্ম আর কোনো বন্ধন তৈরি করে না। 'প্রবিলীয়তে' শব্দের অর্থ হলো কর্পূর যেমন জ্বলে গিয়ে কোনো ছাই রাখে না, তেমনি এই ধরনের কর্মের কোনো পাপ-পুণ্যের অবশিষ্টাংশ থাকে না যা ভোগ করার জন্য পুনরায় জন্ম নিতে হবে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের দৈনন্দিন কাজকে পবিত্র করার পথ। আমরা যদি ঘর পরিষ্কার করি, রান্না করি বা অফিসে কাজ করি—সেটাকেও যজ্ঞ মনে করা যায় যদি তা নিঃস্বার্থভাবে করা হয়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, এই যুদ্ধকে নিজের স্বার্থের জন্য নয়, ধর্মের যজ্ঞ হিসেবে দেখো। তবেই তুমি মুক্ত হবে।