॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ২৪ ॥

ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবির্ভ্রম্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্ ।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা ॥ ৪.২৪ ॥

সরল ভাবার্থ

অর্পণপাত্র (সৃক্-স্রুব) ব্রহ্ম, আহুতি দ্রব্য ব্রহ্ম, ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে ব্রহ্মরূপ হোতা কর্তৃক যা অর্পণ করা হয় তাও ব্রহ্ম—যিনি কর্মের মধ্যে ব্রহ্মকে দর্শন করেন, তিনি ব্রহ্মকেই লাভ করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি গীতার অন্যতম গভীর ও অদ্বৈতবাদী শ্লোক। এখানে শ্রীকৃষ্ণ বোঝাচ্ছেন যে প্রকৃত জ্ঞানীর কাছে জগত এবং জগদীশ্বরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। একটি যজ্ঞের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলছেন:

১. ব্রহ্মার্পণং: যজ্ঞের পাত্র বা উপকরণ হলো ব্রহ্ম। ২. ব্রহ্ম হবিঃ: যে ঘি বা দ্রব্য আগুনে দেওয়া হচ্ছে তাও ব্রহ্ম। ৩. ব্রহ্মাগ্নৌ: যে অগ্নিতে আহুতি দেওয়া হচ্ছে তাও ব্রহ্ম। ৪. ব্রহ্মণা হুতম্: যিনি আহুতি দিচ্ছেন সেই ব্যক্তিও ব্রহ্ম।

সহজ কথায়, সবকিছুর মূলে এক পরম শক্তি বিরাজমান। হিন্দু ধর্মে খাওয়ার আগে এই শ্লোকটি পাঠ করার রীতি আছে, কারণ এর মাধ্যমে আমরা মনে করি—খাবারটি ব্রহ্ম, আমাদের শরীর ব্রহ্ম এবং ভেতরের জঠরাগ্নিও ব্রহ্ম।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের দৃষ্টিকে বিশাল করে তোলে। যখন আমরা বুঝতে পারি যে আমার শত্রুও ব্রহ্ম এবং আমিও ব্রহ্ম, তখন ঘৃণা বা অহংকার আর থাকে না। অর্জুনকে কৃষ্ণ এই পরম একত্ববোধের শিক্ষা দিচ্ছেন। যদি সবকিছুই ব্রহ্ম হয়, তবে যুদ্ধও ব্রহ্মের একটি লীলা মাত্র। এই বোধ মানুষকে ভয় এবং দ্বিধা থেকে মুক্তি দিয়ে পরম শান্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে।