॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ২৫ ॥

দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে ।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি ॥ ৪.২৫ ॥

সরল ভাবার্থ

কোনো কোনো যোগী দেবতাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ সম্পাদন করেন, আবার কেউ কেউ পরমাত্মারূপ অগ্নিতে নিজ আত্মাকেই যজ্ঞের দ্বারা আহুতি দেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে যজ্ঞের বিভিন্ন রূপ বর্ণনা শুরু করেছেন। যজ্ঞ মানে কেবল আগুনে ঘি ঢালা নয়, যজ্ঞের এক গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ আছে:

১. দৈব যজ্ঞ: অনেক যোগী দেবতাদের আরাধনা করেন এবং তাঁদের তুষ্ট করার জন্য পূজা-অর্চনা বা শাস্ত্রীয় যজ্ঞ করেন। এটি ভক্তিযোগের একটি প্রাথমিক স্তর যেখানে ভক্ত নিজেকে সমর্পণ করেন।

২. ব্রহ্ম যজ্ঞ: এটি আরও উচ্চতর স্তর। এখানে কোনো বাহ্যিক উপকরণের প্রয়োজন হয় না। জ্ঞানী যোগীরা তাঁদের ক্ষুদ্র অহংকার বা জীবাত্মাকে পরমাত্মারূপ অগ্নিতে সমর্পণ করেন। তাঁরা অনুভব করেন যে তাঁদের স্বতন্ত্র কোনো অস্তিত্ব নেই, সবটাই পরমেশ্বর।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আরাধনার ধরন আলাদা হতে পারে কিন্তু লক্ষ্য এক। কেউ হয়তো মূর্তিপূজার মাধ্যমে এগোচ্ছেন (দৈব যজ্ঞ), আবার কেউ ধ্যানের মাধ্যমে সরাসরি ব্রহ্মকে খুঁজছেন (ব্রহ্ম যজ্ঞ)। কোনোটিই ভুল নয়। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বোঝাচ্ছেন যে, প্রতিটি মানুষের যোগ্যতানুসারে তাঁর জন্য একটি যজ্ঞের পথ নির্ধারিত থাকে। আসল কথা হলো নিজের 'আমি' ভাবকে উৎসর্গ করা। এই শ্লোকটি আধ্যাত্মিক বহুমুখিতার এক সুন্দর উদাহরণ।