॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ২৬ ॥

শ্রোত্রাদীনিদ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহ্বতি ।
শব্দাদীন্ বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহ্বতি ॥ ৪.২৬ ॥

সরল ভাবার্থ

অন্যান্য যোগীরা শ্রোত্রাদি (কান, চোখ ইত্যাদি) ইন্দ্রিয়গুলোকে সংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেন, আবার কেউ কেউ শব্দাদি (রূপ, রস ইত্যাদি) বিষয়গুলোকে ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে শ্রীকৃষ্ণ ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণের দুটি ভিন্ন পদ্ধতির কথা বলেছেন, যেগুলোকে তিনি যজ্ঞের সাথে তুলনা করেছেন:

১. সংযম যজ্ঞ: এখানে যোগী তাঁর পঞ্চ-ইন্দ্রিয়কে পুরোপুরি শাসন করেন। যেমন শ্রবণশক্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো পরনিন্দা বা অনর্থক শব্দ শোনেন না। এটি হলো ইন্দ্রিয়গুলোকে সংযমরূপ অগ্নিতে পুড়িয়ে শুদ্ধ করা।

২. বিষয় আহুতি: এটি একজন গৃহস্থ যোগীর পথ। তিনি ইন্দ্রিয়গুলোকে রুদ্ধ করেন না, কিন্তু ইন্দ্রিয়গুলোর সামনে যে জাগতিক বিষয়গুলো আসে (যেমন শব্দ, দৃশ্য), সেগুলোকে তিনি ভগবানের প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি অনিয়ন্ত্রিত ভোগ করেন না, বরং পবিত্রভাবে অনুভব করেন।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা যা দেখি বা যা শুনি, তা আমাদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। যদি আমরা যথেচ্ছভাবে সবকিছু দেখি বা শুনি, তবে আমাদের মন অপবিত্র হয়ে যায়। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, তোমার ইন্দ্রিয়গুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করো যেন তা একটি যজ্ঞের মতো পবিত্র হয়। এটি মানুষকে শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে শেখায় এবং দেখায় যে ব্রক্ষ্মচর্য বা সংযম আসলে এক প্রকারের উচ্চতর উপাসনা।