॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ২৭ ॥

সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে ।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহ্বতি জ্ঞানদীপিতে ॥ ৪.২৭ ॥

সরল ভাবার্থ

অন্যান্য যোগীরা জ্ঞানালোকিত আত্মসংযম-যোগরূপ অগ্নিতে সমস্ত ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়া এবং প্রাণের (নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস) সমস্ত ক্রিয়া আহুতি দেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি হলো ধ্যানের এক গভীর পর্যায়, যাকে 'অষ্টাঙ্গ যোগ' বা 'ধ্যানযোগ' বলা হয়। এখানে যোগী কেবল বাইরের ইন্দ্রিয় নয়, শরীরের ভেতরের শক্তির সাথে যজ্ঞ করেন:

১. প্রাণ-ক্রিয়া আহুতি: প্রাণবায়ু বা নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। প্রাণায়াম এবং ধ্যানের মাধ্যমে যখন শ্বাস স্থির হয়, তখন মনও স্থির হয়।

২. আত্মসংযম-যোগাগ্নি: এটি হলো নিজের মনের ভেতরে জ্ঞান দিয়ে জ্বালানো এক বিশাল আগুন। যখন বুদ্ধি বুঝতে পারে যে আত্মা এবং শরীর আলাদা, তখন সেই জ্ঞান দিয়ে সে নিজের চঞ্চলতাকে দহন করে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি 'পতঞ্জলি যোগসূত্রে' বর্ণিত ধ্যানের কথা মনে করিয়ে দেয়। যখন একজন মানুষ তাঁর সমস্ত শারীরিক এবং মানসিক শক্তিকে এক জায়গায় স্থির করেন এবং তা পরমাত্মার সাথে যুক্ত করেন, তখন তাঁর কোনো পার্থিব কামনা অবশিষ্ট থাকে না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যে, যুদ্ধের ময়দানেও তুমি এই মানসিক স্থিরতা অর্জন করতে পারো যদি তোমার লক্ষ্য কেবল আত্মা হয়। এই যজ্ঞটি মানুষকে মানসিক প্রশান্তি এবং অসীম ধৈর্য দান করে।