॥ অধ্যায় ৪, শ্লোক ২৮ ॥

দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞ যোগযজ্ঞাথা্পরে ।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ ॥ ৪.২৮ ॥

সরল ভাবার্থ

কেউ দ্রব্য-যজ্ঞকারী, কেউ তপো-যজ্ঞকারী, কেউ যোগ-যজ্ঞকারী, আবার কঠোর ব্রতধারী অন্যান্য যতিরা শাস্ত্র অধ্যয়ন রূপ স্বাধ্যায়-জ্ঞানযজ্ঞকারী হন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে চার প্রকারের যজ্ঞের কথা খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, যা সব ধরনের মানুষের জন্য প্রযোজ্য:

১. দ্রব্য-যজ্ঞ: নিজের ধন-সম্পদ বা অন্ন দরিদ্র বা সৎকাজে দান করা। এটি হলো ত্যাগের প্রাথমিক রূপ।

২. তপো-যজ্ঞ: নিজের শরীর ও মনকে সংযত করার জন্য কঠোর ব্রত পালন করা (যেমন উপবাস বা সাধনা)।

৩. যোগ-যজ্ঞ: অষ্টাঙ্গ যোগ বা ধ্যানের মাধ্যমে মনকে পরমাত্মার সাথে যুক্ত করা।

৪. স্বাধ্যায়-জ্ঞানযজ্ঞ: পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা, সত্যের অনুসন্ধান করা এবং অর্জিত জ্ঞান অন্যের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আধ্যাত্মিকতার সংজ্ঞাকে অত্যন্ত উদার করে দিয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন না যে কেবল সন্ন্যাসীরাই মুক্তি পাবেন। আপনি যদি সৎপথে উপার্জিত টাকা দান করেন, তবে আপনিও যজ্ঞ করছেন। আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে শাস্ত্র পড়েন, তবে সেটাও এক প্রকার যজ্ঞ। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কর্মের প্রতিটি ক্ষেত্রকে আধ্যাত্মিক করা সম্ভব। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে ক্ষত্রিয় হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করাও একটি যজ্ঞ।