সরল ভাবার্থ
অন্যান্য যোগীরা অপান বায়ুতে প্রাণ বায়ুকে আহুতি দেন, আবার কেউ কেউ প্রাণ বায়ুতে অপান বায়ুকে আহুতি দেন। এভাবে তাঁরা প্রাণ ও অপান বায়ুর গতি রোধ করে প্রাণায়ামে নিমগ্ন থাকেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে 'প্রাণায়াম' বা শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যজ্ঞের কথা বলেছেন। এটি হঠযোগ বা অষ্টাঙ্গ যোগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শ্লোকে গভীর যোগতত্ত্ব লুকানো আছে:
১. প্রাণ ও অপান বায়ুর বিজ্ঞান: আমাদের শরীরের ভেতর প্রাণশক্তি বিভিন্ন বায়ু রূপে কাজ করে। 'প্রাণ' বায়ু হলো যা আমরা গ্রহণ করি (নিঃশ্বাস) এবং 'অপান' বায়ু হলো যা শরীরের নিচের দিকে কাজ করে এবং যা আমরা ত্যাগ করি।
২. আহুতি ও কুম্ভক: যখন একজন যোগী পূরক (শ্বাস নেওয়া) এবং রেচক (শ্বাস ছাড়া) ক্রিয়া করেন, তখন তিনি একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করেন। শেষ পর্যায়ে তিনি 'কুম্ভক' বা শ্বাস রোধ করেন। শ্রীকৃষ্ণ একে যজ্ঞ বলছেন কারণ এখানে চঞ্চল মনকে শান্ত করার জন্য শরীরের জীবনী শক্তিকে একাগ্র করা হচ্ছে।
৩. মানসিক স্থৈর্য: যখন প্রাণ বায়ু স্থির হয়, তখন চিত্ত বা মনও স্থির হয়। মানুষের মনের গতি শ্বাসের গতির সাথে যুক্ত। শ্বাস যত দ্রুত হয়, মানুষ তত বেশি উত্তেজিত বা রাগী হয়। প্রাণায়ামের মাধ্যমে শ্বাসকে স্থির করে যোগীরা আত্মোপলব্ধির জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শরীরকে একটি মন্দিরের মতো পবিত্র করতে শেখায়। যোগীরা মনে করেন এই শরীরের ভেতরের বায়ুই হলো আহুতি দ্রব্য। এটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা কেবল মন্দিরে যাওয়ার বিষয় নয়, বরং নিজের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসকেও ঈশ্বরে সমর্পিত করা সম্ভব। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি যুদ্ধের অস্থিরতার মাঝেও নিজের শরীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। এই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি মানুষকে দীর্ঘায়ু এবং অসীম মানসিক শক্তি দান করে।