সরল ভাবার্থ
এইভাবে বেদে বহু প্রকারের যজ্ঞের কথা বর্ণিত হয়েছে। এই সমস্ত যজ্ঞকেই কর্ম থেকে উৎপন্ন বলে জানবে। এই তত্ত্ব সম্যকভাবে জানলে তুমি সংসার বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করবে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণ এখানে যজ্ঞের বহুমুখিতা এবং কর্মের সাথে এর সম্পর্কের সারসংক্ষেপ করেছেন:
১. ব্রহ্মণো মুখে (বেদের বাণীতে): হিন্দু ধর্মে বেদ হলো জ্ঞানের আদি উৎস। সেখানে নানা ধরনের মানুষের স্বভাব অনুযায়ী নানা যজ্ঞের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ ধ্যানের মাধ্যমে, কেউ দান-ধ্যানের মাধ্যমে, আবার কেউ শাস্ত্র পাঠের মাধ্যমে ভগবানের দিকে এগোয়। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, সব পথই বৈধ।
২. কর্মজাত যজ্ঞ: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কোনো যজ্ঞই কর্ম ছাড়া সম্ভব নয়। এমনকি ধ্যান করার সময়ও শরীর ও মনের একাগ্রতার কর্ম প্রয়োজন হয়। ভগবান পরিষ্কার বলছেন যে, কর্ম ত্যাগ করা মুক্তি নয়; বরং কর্মকে যজ্ঞে পরিণত করাই হলো মুক্তি।
৩. জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে: কেবল যজ্ঞ করলেই হবে না, যজ্ঞের পেছনের উদ্দেশ্যটিও জানতে হবে। যখন মানুষ জানে যে সে কেন কাজ করছে এবং কার জন্য করছে, তখন সেই জ্ঞান তাকে বন্ধনমুক্ত করে।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের অলসতা ত্যাগ করতে শেখায়। আমরা প্রায়ই ভাবি যে মুক্তি মানে হয়তো কোনো কাজ না করা। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, মুক্তি আসে সঠিক কর্মের মাধ্যমে। অর্জুনকে এটি জানানো হচ্ছে যাতে তিনি যুদ্ধরূপ কর্মকে ভয় না পান। যদি এই যুদ্ধ ধর্মের জন্য হয়, তবে এটিও বেদে বর্ণিত যজ্ঞেরই একটি রূপ। এই শ্লোকটি আমাদের কাজকে ভয় না পেয়ে তাকে সঠিক লক্ষ্যে চালিত করার সাহস দেয়।