সরল ভাবার্থ
অর্জুন বললেন—আপনার জন্ম তো এই আধুনিক কালের (অধুনা), কিন্তু সূর্যের জন্ম হয়েছে সুদূর অতীতে। তাহলে আপনিই সৃষ্টির শুরুতে সূর্যকে এই জ্ঞান দিয়েছিলেন—তা আমি কীভাবে বুঝব?
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
অর্জুনের এই প্রশ্নটি আমাদের সবার মনের সংশয়কে তুলে ধরে। এটি একটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন। কৃষ্ণ অর্জুনের সমসাময়িক, তিনি অর্জুনের সামনে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্যদিকে সূর্যদেব কোটি কোটি বছর ধরে আকাশে আছেন। একজন মানুষ হয়ে কীভাবে সূর্যকে জ্ঞান দেওয়া সম্ভব?
অর্জুন এখানে কেবল নিজের জন্য নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই প্রশ্নটি করেছেন। তিনি চাইছিলেন কৃষ্ণ যেন নিজের দিব্য স্বরূপ পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলেন। অর্জুন জানতেন যে কৃষ্ণ সাধারণ মানুষ নন, তবুও মানুষের বুদ্ধি যখন এই ধরনের অতিপ্রাকৃত কথা শোনে, তখন তার যুক্তি একে গ্রহণ করতে চায় না।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো মায়ার প্রভাব। আমরা যখন ঈশ্বরকে মানুষের শরীরে দেখি, তখন আমরা তাঁর অনন্ত কালকে ভুলে যাই। অর্জুন এখানে সীমাবদ্ধ বুদ্ধির প্রতীক, আর কৃষ্ণ হলেন অসীম জ্ঞানের প্রতীক। এই শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আধ্যাত্মিক সত্য অনেক সময় আমাদের সীমিত বুদ্ধির বাইরে থাকে। কিন্তু অর্জুনের এই প্রশ্নটিই গীতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শ্লোক—জন্মকর্ম চ মে দিব্যম (আমার জন্ম ও কর্ম দিব্য)—এর পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। এটি আমাদের শেখায় যে সত্যকে জানার জন্য প্রশ্ন করা কোনো অন্যায় নয়, বরং বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করলে ঈশ্বর স্বয়ং তার উত্তর দেন।