সরল ভাবার্থ
শ্রীভগবান বললেন—হে পরন্তপ অর্জুন! আমার এবং তোমার অতীতে অনেক জন্ম হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা জানি, কিন্তু তুমি তা জানো না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ এখানে এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ করছেন। এটি হলো জন্মান্তরবাদ এবং ঈশ্বরের সর্বজ্ঞতার প্রমাণ। তিনি বলছেন যে, অর্জুন এবং তিনি অতীতে বহুবার বহু রূপে পৃথিবীতে এসেছেন। কিন্তু পার্থক্য হলো—মানুষ হিসেবে অর্জুন তাঁর আগের কথা ভুলে গেছেন, আর ঈশ্বর হিসেবে কৃষ্ণ সব মনে রেখেছেন।
মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন সে মায়ার আস্তরণে ঢেকে যায়, ফলে তার পূর্বস্মৃতি থাকে না। কিন্তু ভগবান যখন আসেন, তিনি স্বীয় সংকল্পে আসেন এবং মায়া তাঁকে গ্রাস করতে পারে না। তিনি কাল বা সময়ের অতীত। তিনি যেমন বর্তমানের কৃষ্ণকে দেখছেন, তেমনি অতীতের সেই কৃষ্ণকেও দেখছেন যিনি সূর্যকে জ্ঞান দিয়েছিলেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের আত্মার অবিনাশী হওয়ার বড় প্রমাণ। আমাদের মৃত্যু মানে বিনাশ নয়, বরং এক দেহ থেকে অন্য দেহে যাত্রা। আমরা আজ যা করছি, তার শিকড় হয়তো বহু জন্মের আগে পোঁতা হয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিজেকে 'ঈশ্বর' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন যিনি জন্ম-মৃত্যুর উর্ধ্বে থেকে সব লক্ষ্য করেন। এটি আমাদের মনে এক গভীর শান্তি দেয় যে—আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি লড়াই ঈশ্বরের নজরে আছে। তিনি সবকিছু জানেন এবং সবকিছুর সাক্ষী। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে কৃষ্ণের উপদেশ কোনো সাধারণ মানুষের কথা নয়, বরং বিশ্বনিয়ন্তার এক অমোঘ নির্দেশ।