সরল ভাবার্থ
আমি জন্মরহিত, অবিনাশী আত্মা এবং সমস্ত প্রাণীর ঈশ্বর হওয়া সত্ত্বেও নিজের প্রকৃতিকে (অন্তরঙ্গ শক্তি) বশীভূত করে আত্মমায়ার দ্বারা আবির্ভূত হই।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি শ্রীকৃষ্ণের দিব্য জন্মের রহস্য উন্মোচন করে। সাধারণ মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন সে তাঁর পূর্বজন্মের কর্মের ফলে এবং প্রকৃতির ত্রিগুণের (সত্ত্ব, রজ, তম) অধীনে বাধ্য হয়ে জন্ম নেয়। কিন্তু ভগবানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলছেন—'অজোঽপি' অর্থাৎ তাঁর কোনো জন্ম নেই, কারণ তিনি অনাদি। তবুও তিনি মর্ত্যে আসেন।
এখানে শ্রীকৃষ্ণ 'আত্মমায়া' শব্দটির ওপর জোর দিয়েছেন। আমরা মায়ার দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হই, কিন্তু ভগবান মায়াকে নিজের অধীনে রেখে কাজ করেন। তিনি যখন মানুষের মতো দেহ ধারণ করেন, তখন তাঁর দেহ আমাদের মতো পঞ্চভূতের তৈরি নশ্বর দেহ নয়, বরং তা 'সচ্চিদানন্দ' বিগ্রহ। তিনি ক্ষুধার্ত হন, তিনি যুদ্ধ করেন, তিনি হাসেন—কিন্তু এই সবকিছুর পেছনে তিনি জানেন যে তিনি পরমেশ্বর।
ধর্মীয় বিচারে, এটি হলো কৃপা। ঈশ্বর কেন মানুষের মতো আসেন? কারণ যদি তিনি তাঁর অসীম জ্যোতির্ময় রূপে আসতেন, তবে সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতো না। তিনি আমাদের স্তরে নেমে আসেন যাতে আমরা তাঁকে ভালোবেসে তাঁর উপদেশ গ্রহণ করতে পারি। তিনি প্রকৃতির ঊর্ধ্বে থেকেও প্রকৃতির অধিপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে শ্রীকৃষ্ণকে সাধারণ মানুষ মনে করা মস্ত বড় ভুল; তিনি লীলা করার জন্য মানুষের রূপ নিয়েছেন মাত্র। তিনি জন্মহীন হয়েও আমাদের মায়ামুক্ত করার জন্য 'জন্ম' নেন।