সরল ভাবার্থ
অজ্ঞ, শ্রদ্ধাহীন এবং সংশয়ী ব্যক্তি বিনাশ প্রাপ্ত হয়। সংশয়ী ব্যক্তির জন্য ইহলোকও সুখকর নয়, পরলোকও নয় এবং তাঁর জন্য কোনো সুখও নেই।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
আগের শ্লোকে যারা সফল হয় তাদের কথা বলে, এখানে শ্রীকৃষ্ণ যারা ব্যর্থ হয় তাদের সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে 'সংশয়' বা সন্দেহকে তিনি সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
১. সংশয়াত্মা বিনশ্যতি: সংশয় হলো এক প্রকার মানসিক পঙ্গুত্ব। যার মনে সন্দেহ থাকে, সে কোনো কাজে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে পারে না। সে না পারে ধর্মকে বিশ্বাস করতে, না পারে জগতকে পুরোপুরি উপভোগ করতে। এই দোদুল্যমান অবস্থা তাঁর সমস্ত কর্মশক্তিকে নষ্ট করে দেয়।
২. ইহলোক ও পরলোক: সংশয়ী মানুষ এই পৃথিবীতেও সুখী হতে পারে না কারণ সে সবসময় সবকিছুর পেছনে নেতিবাচক কিছু খোঁজে। তাঁর কোনো নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক তৈরি হয় না। আবার তাঁর কোনো আধ্যাত্মিক লক্ষ্যও থাকে না বলে মৃত্যুর পরও তাঁর কোনো গতি হয় না।
৩. অজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাহীনতা: জ্ঞানহীনতা বিপদজনক, কিন্তু তার চেয়েও বিপদজনক হলো জানার ইচ্ছা না থাকা (অশ্রদ্ধা)। শ্রদ্ধা থাকলে মানুষ অন্তত শেখার চেষ্টা করে, কিন্তু সংশয় মানুষকে এক বদ্ধ কুয়োর মধ্যে আটকে রাখে।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি অর্জুনের প্রতি এক বড় আঘাত। অর্জুন যুদ্ধের শুরুতে সংশয়ে ভুগছিলেন—যুদ্ধ করব কি করব না? কৃষ্ণ তাকে বোঝাচ্ছেন যে এই দ্বিধা তোমাকে ধ্বংস করে দেবে। জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সফল হতে হলে দ্বিধামুক্ত হওয়া জরুরি। এটি আমাদের শেখায় যে সত্যকে জানতে হলে প্রথমে মনে বিশ্বাস ও সংকল্প রাখতে হবে। সন্দেহ মনকে কুড়ে কুড়ে খায়, তাই একে উপড়ে ফেলাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।