সরল ভাবার্থ
হে ধনঞ্জয়! যিনি নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা সমস্ত কর্ম ত্যাগ করেছেন, জ্ঞানের দ্বারা যাঁর সমস্ত সংশয় দূর হয়েছে এবং যিনি আত্মজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, তাঁকে কোনো কর্মই আবদ্ধ করতে পারে না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোকটি পুরো অধ্যায়ের নির্যাস। এখানে শ্রীকৃষ্ণ একজন মুক্ত মানুষের তিনটি প্রধান লক্ষণের কথা বলেছেন:
১. যোগসংন্যস্তকর্মাণম্: এখানে কর্ম ত্যাগ করার অর্থ কাজ ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং কাজের ফলের সাথে আসক্তি ত্যাগ করা। যখন কোনো মানুষ ভগবানের সাথে যুক্ত (যোগ) হয়ে কাজ করেন, তখন তাঁর কর্মফল ঈশ্বরে অর্পিত হয়ে যায়।
২. জ্ঞানসংছিন্নসংশয়ম্: আগের শ্লোকে বলা সংশয়কে কীভাবে জয় করতে হয়? উত্তর হলো—জ্ঞান। জ্ঞান তরবারির মতো সংশয়কে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়। যখন কেউ জানে যে পরম সত্য কী, তখন তাঁর মনে আর কোনো দ্বিধা থাকে না।
৩. আত্মবন্তম্: অর্থাৎ যিনি নিজের আত্মার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন এবং সর্বদা আত্মতত্ত্বে সচেতন। এমন মানুষ জাগতিক হর্ষ বা বিষাদে বিচলিত হন না।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কাজ করতে করতে কীভাবে মুক্ত হওয়া যায়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন যে, তুমি যদি নিজেকে আমার সাথে যুক্ত করো এবং এই সত্য জানো যে তুমি অবিনাশী আত্মা, তবে এই যুদ্ধের কোনো পাপ তোমাকে বাঁধতে পারবে না। এটি এক পরম স্বাধীনতা—সংসারে থেকেও সংসারের মায়াজালে না জড়ানো। ধনঞ্জয় (অর্জুন) হিসেবে তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তিনি তাঁর ভেতরের সম্পদ বা আত্মতত্ত্ব জয় করেছেন। এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সংগ্রামের মাঝেও এক দিব্য দৃষ্টি দেয়।