॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ১২ ॥

যুক্তঃ কর্মফলং ত্যক্ত্বা শান্তিমাপ্নোতি নৈষ্ঠিকীম্ ।
অযুক্তঃ কামকারেণ ফলে সক্তো নিবধ্যতে ॥ ৫.১২ ॥

সরল ভাবার্থ

পরমেশ্বরের সাথে যুক্ত কর্মযোগী কর্মফল ত্যাগ করে পরম শান্তি লাভ করেন। কিন্তু ফলপ্রার্থী অযুক্তি ব্যক্তি (অসংযত মানুষ) কামনার বশবর্তী হয়ে কর্মফলে আসক্ত হয়ে সংসারে আবদ্ধ হন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শান্তি ও অশান্তির মূল কারণ এখানে শ্রীকৃষ্ণ ধরিয়ে দিয়েছেন। এটি এক চিরন্তন মনস্তাত্ত্বিক সত্য।

১. নৈষ্ঠিকী শান্তি: এটি এমন এক শান্তি যা কখনো পরিবর্তন হয় না। যখন কেউ কর্মের ফলের ওপর থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেয়, তখন সে আর দুশ্চিন্তা করে না। সে জানে ফল দেওয়া ঈশ্বরের হাতে। এই 'সারেন্ডার' বা সমর্পণের ভাবই তাঁকে অটল শান্তি দেয়।

২. অযুক্ত ও কামকার: যারা যোগযুক্ত নয় (অযুক্ত), তারা প্রতিটি কাজ করে কামনার বশবর্তী হয়ে। তারা সারাক্ষণ হিসাব করে—আমি এটা করলে কী পাব? এই প্রত্যাশাই হলো বন্ধনের শেকল। যদি ফল মনের মতো না হয় তবে তাঁরা হতাশ হয়, আর মনের মতো হলে অহংকারী হয়। এই দুটির কোনোটিতেই শান্তি নেই।

৩. নিবধ্যতে বা বন্ধন: ফলের আশা করা মানেই হলো ভবিষ্যতের জালে নিজেকে আটকে ফেলা। বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করার পরিবর্তে মানুষ ফলের চিন্তায় ছটফট করে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের 'এক্সপেকটেশন ম্যানেজমেন্ট' শেখায়। আমরা যখন কোনো পুজো বা সেবা করি, তখন যদি বিনিময়ে কিছু চাই, তবে সেটা ব্যবসা হয়, ভক্তি নয়। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, তুমি যদি জয়ের আসক্তি নিয়ে যুদ্ধ করো তবে তুমি অশান্ত থাকবে। কিন্তু তুমি যদি ধর্মের খাতিরে যুদ্ধ করো, তবে জয় বা পরাজয় যাই আসুক, তোমার শান্তি অটুট থাকবে। এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি ব্যর্থতায় অবিচল থাকার শক্তি দেয়।