॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ১৩ ॥

সর্বকর্মাণি মনসা সংন্যস্যাস্তে সুখং বশী ।
নবদ্বারে পুরে দেহী নৈব কুর্বন্ন কারয়ন্ ॥ ৫.১৩ ॥

সরল ভাবার্থ

জিতেন্দ্রিয় পুরুষ সমস্ত কর্ম মনে মনে পরিত্যাগ করে, এই নবদ্বার বিশিষ্ট দেহরূপ পুরীতে নিজে কিছু না করে এবং কিছু না করিয়েও সুখে অবস্থান করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে 'শরীর' এবং 'আত্মা'র সম্পর্কের এক অপূর্ব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই শ্লোকটি মানুষকে পরম আধ্যাত্মিক আরাম (comfort) দেয়।

১. নবদ্বারে পুরে: মানুষের শরীরকে একটি শহরের (পুরী) সাথে তুলনা করা হয়েছে যার ৯টি দরজা আছে (চোখ-২, কান-২, নাসারন্ধ্র-২, মুখ-১, পায়ু-১, উপস্থ-১)। আত্মা এই শহরের রাজা বা অধিবাসী (দেহী)।

২. মনসা সংন্যস্য: এর অর্থ হলো—বাইরে কাজ চললেও মনে মনে অনুভব করা যে আমি কর্তা নই। এটি এক প্রকার উচ্চতর ধ্যান। যখন আপনি জানেন যে এই শরীর প্রকৃতির নিয়মে চলছে, তখন আপনি ভেতরে এক গভীর নীরবতা খুঁজে পান।

৩. নৈব কুর্বন্ন কারয়ন্: আত্মা আসলে নিষ্ক্রিয়। সে কোনো কাজ করে না, আবার কাউকে দিয়ে করায়ও না। সে কেবল শরীর ও বুদ্ধির কাজগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে।



ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শরীর থেকে মোহ কমাতে সাহায্য করে। আমরা যখন অসুস্থ হই বা বার্ধক্যে পৌঁছাই, তখন আমরা খুব দুঃখ পাই কারণ আমরা শরীরকে 'আমি' মনে করি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, তুমি এই শরীরের ভেতরে থাকা এক শান্ত যাত্রী মাত্র। এই বোধ থাকলে মানুষ জীবনের কঠিনতম সময়েও সুখে থাকতে পারে। অর্জুনকে এটি বোঝানো হচ্ছে যাতে তিনি তাঁর রথ চালানোর সময় বা যুদ্ধের সময় নিজের আত্মাকে স্থির রাখতে পারেন। এটিই হলো প্রকৃত আনন্দ—কাজের মাঝে থেকেও অখণ্ড বিশ্রাম।