॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ১৪ ॥

ন কর্তৃত্বং ন কর্মাণি লোকস্য সৃজতি প্রভুঃ ।
ন কর্মফলসংযোগং স্বভাবস্তু প্রবর্ততে ॥ ৫.১৪ ॥

সরল ভাবার্থ

ঈশ্বর জগতের মানুষের কর্তৃত্ব (আমি করছি—এই ভাব), কর্ম অথবা কর্মফলের সাথে সংযোগ সৃষ্টি করেন না। এই সব কিছুই প্রকৃতির নিয়মে এবং জীবের নিজস্ব স্বভাব অনুযায়ী ঘটে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এই শ্লোকটি মানুষের একটি বড় অভিযোগের উত্তর দেয়—সব যদি ঈশ্বরই করেন, তবে আমি ভুল করলে দায়ী কেন?

১. ঈশ্বরের নির্লিপ্ততা: শ্রীকৃষ্ণ পরিষ্কার করছেন যে তিনি কাউকে পাপ বা পুণ্য করতে বাধ্য করেন না। তিনি সূর্যের মতো—সূর্য কেবল আলো দেয়, কিন্তু সেই আলোয় কেউ শাস্ত্র পড়ে আবার কেউ চুরি করে। আলো এর জন্য দায়ী নয়। তেমনি ঈশ্বর শক্তি দেন, কিন্তু সেই শক্তির প্রয়োগ মানুষের স্বভাবের ওপর নির্ভর করে।

২. স্বভাবস্তু প্রবর্ততে: স্বভাব মানে আমাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও সংস্কার। আমরা আমাদের স্বভাবের কাছে দাস। যখন কেউ রাগ করে বা মিথ্যা বলে, তা তাঁর অর্জিত স্বভাবের কারণে। প্রকৃতি বা মায়া এই স্বভাবগুলোকে চালনা করে।

৩. কর্তৃত্ব ও সংযোগ: মানুষ যখন অহংকারের কারণে মনে করে আমিই করছি, তখনই সে কর্মফলের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ঈশ্বর এই সংযোগ তৈরি করেন না, মানুষের মন নিজেই এটি তৈরি করে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের দায়িত্বশীল হতে শেখায়। আমরা আমাদের ভাগ্যের জন্য ঈশ্বরকে দোষ দিতে পারি না। আমাদের সংস্কারই আমাদের ভাগ্য তৈরি করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, এই যুদ্ধের পরিস্থিতি তোমার সামনে এসেছে প্রকৃতির নিয়মে, কিন্তু তোমার সিদ্ধান্ত তোমার স্বভাব অনুযায়ী হবে। এটি আমাদের জীবনে ভুল শুধরে নেওয়ার এবং নিজের স্বভাবকে উন্নত করার প্রেরণা দেয়। ঈশ্বর আছেন কেবল সাক্ষী হিসেবে এবং শক্তির উৎস হিসেবে।