॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ১৫ ॥

নাদত্তে কস্যচিৎ পাপং ন চৈব সুকৃতং বিভুঃ ।
অজ্ঞানেনাবৃতং জ্ঞানং তেন মুহ্যন্তি জন্তবঃ ॥ ৫.১৫ ॥

সরল ভাবার্থ

পরমাত্মা কারোর পাপ বা পুণ্য গ্রহণ করেন না। অজ্ঞানতার দ্বারা জ্ঞান আবৃত হয়ে থাকে বলেই জীবগণ মোহাচ্ছন্ন হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে ধর্মের এক অত্যন্ত গভীর ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি মানুষের মনের যাবতীয় ভুল ধারণা দূর করেছেন।

১. পাপ-পুণ্যের ঊর্ধ্বে ঈশ্বর: অনেক সময় আমরা মনে করি অনেক পুজো করলে ঈশ্বর আমাদের পাপ মাফ করে দেবেন অথবা খুশি হয়ে পুণ্য দেবেন। কিন্তু বিভু (ঈশ্বর) সর্বব্যাপী ও পূর্ণ। তাঁর কিছু নেওয়ার বা দেওয়ার নেই। পাপ ও পুণ্য হলো মনের অবস্থা। আমরা খারাপ কাজ করলে আমাদের মন অপবিত্র হয় (পাপ), ভালো কাজ করলে পবিত্র হয় (পুণ্য)। ঈশ্বর এতে নিরপেক্ষ থাকেন।

২. অজ্ঞানেনাবৃতং জ্ঞানং: প্রতিটি মানুষের ভেতরে পূর্ণ জ্ঞান বা ব্রহ্ম ভাব লুকিয়ে আছে। যেমন মেঘে ঢাকা থাকলে সূর্যের আলো ম্লান দেখায়, তেমনি আমাদের অজ্ঞানতা ও কামনার মেঘ আমাদের ভেতরের দেবত্বকে ঢেকে রাখে।

৩. মুহ্যন্তি জন্তবঃ: জন্তু বলতে এখানে সেই সব মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা কেবল ইন্দ্রিয়ের সুখ ভোগ করে। জ্ঞানের অভাবের কারণে আমরা জগতকে উল্টো দেখি—যা নশ্বর তাকে অবিনশ্বর ভাবি, আর যা সত্য তাকে অগ্রাহ্য করি।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সত্য অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন না যে তোমাকে বাইরে কিছু খুঁজতে হবে। তিনি বলছেন তোমার ওপর থেকে অজ্ঞানতার পর্দাটা সরাতে। যখনই তুমি নিজেকে 'শরীর' ভাবা বন্ধ করবে, তখনই সত্য প্রকাশিত হবে। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি আত্মীয়-স্বজনের প্রতি মোহ থেকে বেরিয়ে সত্যের আলোকে নিজের কর্তব্য দেখতে পান। এটি আমাদের কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে বাস্তববাদী হতে শেখায়।