সরল ভাবার্থ
কিন্তু যাঁর আত্মজ্ঞান দ্বারা অজ্ঞানতা বিনাশ প্রাপ্ত হয়েছে, তাঁর সেই জ্ঞান সূর্যের মতো সেই পরম ব্রহ্মতত্ত্বকে প্রকাশিত করে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
আগের শ্লোকে অন্ধকারের কথা বলে, এখানে শ্রীকৃষ্ণ আলোর মহিমা বর্ণনা করেছেন। এটি হলো অন্ধকারের শেষে ভোরের বর্ণনা।
১. আদিত্যবৎ বা সূর্যের মতো: সূর্য উঠলে যেমন কোনো প্রদীপ জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না, সমস্ত অন্ধকার আপনা-আপনি দূর হয়ে যায়—আত্মজ্ঞানও তেমনি। এটি মানুষের মনের সমস্ত দ্বিধা, ভয় এবং সংশয় পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।
২. অজ্ঞান বিনাশ: অজ্ঞানতা মানে হলো নিজেকে শরীর ভাবা এবং জগতকে নিজের ভোগের বস্তু ভাবা। জ্ঞান এই ভ্রমকে ভেঙে দেয়। তখন মানুষ বুঝতে পারে যে সে অবিনাশী আত্মা।
৩. তত্পরম্ প্রকাশয়তি: এই জ্ঞান কেবল তথ্য নয়, এটি হলো ঈশ্বরকে চাক্ষুষ করার ক্ষমতা। যখন জ্ঞান পূর্ণ হয়, তখন মানুষ প্রতিটি ঘাসে, প্রতিটি মানুষের ভেতরে ভগবানকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায়।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সাধনার গুরুত্ব বোঝায়। আমরা প্রার্থনা করি তমসো মা জ্যোতির্গময় (অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে চলো)। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে এই আলো তোমার ভেতরেই আছে, কেবল অজ্ঞানতার মেঘ সরানোর অপেক্ষা। অর্জুনকে তিনি আশ্বাস দিচ্ছেন যে, যখন তুমি এই তত্ত্বজ্ঞান লাভ করবে, তখন তোমার জন্য জয়-পরাজয় বা স্বজন-মৃত্যু আর অন্ধকার থাকবে না। এটি আমাদের জীবনের চরম সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায় যেখানে কেবল আনন্দ আর আনন্দ।