॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ১৭ ॥

তদ্বুদ্ধয়স্তদাত্মানস্তন্নিষ্ঠাস্তৎপরায়ণাঃ ।
গচ্ছন্ত্যপুনরাবৃত্তিং জ্ঞাননির্ধূতকল্মষাঃ ॥ ৫.১৭ ॥

সরল ভাবার্থ

যাঁদের বুদ্ধি ঈশ্বরে নিহিত, যাঁর আত্মা পরমেশ্বরের সাথে একীভূত, যাঁর নিষ্ঠা একমাত্র তাঁর ওপর এবং যিনি কেবল তাঁকেই পরম গতি বলে জানেন—সেই সকল ব্যক্তি জ্ঞানের দ্বারা নিষ্কলঙ্ক হয়ে মোক্ষ লাভ করেন এবং তাঁদের আর পুনর্জন্ম হয় না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

মুক্তির বা মোক্ষের চার স্তর এখানে শ্রীকৃষ্ণ ঘোষণা করেছেন। এটি হলো জীবনের আল্টিমেট গোল বা লক্ষ্য।

১. তদ্বুদ্ধয়ঃ ও তদাত্মানঃ: যখন কোনো মানুষ সারাক্ষণ ঈশ্বরের চিন্তা করেন, তাঁর বুদ্ধি শুদ্ধ হয়। তিনি অনুভব করেন যে তাঁর আত্মা পরমাত্মারই একটি অংশ। এটিই হলো চরম একত্ববোধ।

২. তন্নিষ্ঠাঃ ও তত্পরায়ণাঃ: নিষ্ঠা মানে হলো অটল বিশ্বাস। ঝড়ে যেমন বড় গাছ উপড়ে যায় না, তেমনি প্রকৃত ভক্তের বিশ্বাস কোনো বিপদেই টলে না। তিনি জানেন ঈশ্বর ছাড়া আর কোনো সত্য নেই।

৩. অপুনরাবৃত্তিং (জন্ম-মৃত্যুর অবসান): সনাতন ধর্মে বার বার পৃথিবীতে আসা (সংসার) একটি চক্র হিসেবে ধরা হয়। যারা জ্ঞান লাভ করেন, তাঁরা এই চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি পান। তাঁরা অমৃত লাভ করেন।

৪. জ্ঞাননির্ধূতকল্মষাঃ: জ্ঞান তাঁদের হৃদয়ের শেষটুকু ময়লাও ধুয়ে ফেলে। তাঁরা হন কাঁচের মতো স্বচ্ছ।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের সার্থকতা বোঝায়। অর্জুনকে কৃষ্ণ বলছেন, তুমি যদি এই একত্ববোধ লাভ করতে পারো, তবে তুমি জন্ম-মৃত্যুর উর্ধ্বে চলে যাবে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরম শান্তির সন্ধান দেয়। যখন আমরা সবকিছু ভগবানের চরণে সঁপে দিই, তখন পৃথিবী আমাদের আর ভয় দেখাতে পারে না। এই শ্লোকটি এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি যা চিরস্থায়ী এবং দিব্য।