সরল ভাবার্থ
পণ্ডিতগণ বিদ্যা-বিনয়সম্পন্ন ব্রাহ্মণ, গোরু, হাতি, কুকুর এবং চণ্ডালের প্রতি সমদর্শী হন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি গীতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবিক ও আধ্যাত্মিক শ্লোক। এখানে শ্রীকৃষ্ণ আত্মার অদ্বৈত রূপের বর্ণনা দিয়েছেন।
১. সমদর্শী বা সমদর্শন: সমদর্শী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আমরা কুকুরের সাথে ব্রাহ্মণের মতো ব্যবহার করব। এর প্রকৃত অর্থ হলো—বাইরের খোলস বা শরীর যা-ই হোক না কেন, ভেতরের সেই পরমাত্মার জ্যোতি সবার মধ্যে এক। একজন পণ্ডিত জানেন যে সোনার অলংকার বিভিন্ন আকারের হতে পারে, কিন্তু সবগুলোর ভেতরে সোনাই আছে।
২. শ্রেণিভেদহীনতা: কৃষ্ণ এখানে সামাজিক সম্মানের চরম পর্যায় (ব্রাহ্মণ) থেকে শুরু করে প্রাণিকুল (গোরু, হাতি) এবং সমাজের অবহেলিত অংশ (চণ্ডাল)—সবার কথা বলেছেন। জ্ঞানীর চোখে কোনো উঁচু-নিচু নেই।
৩. বিদ্যার সার্থকতা: যার জ্ঞান আছে কিন্তু বিনয় নেই, তিনি প্রকৃত জ্ঞানী নন। বিদ্যা ও বিনয় একসাথে এলে মানুষ সবার মাঝে ঈশ্বরকে দেখতে পায়।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ঘৃণা বা অহংকারের কোনো স্থান নেই। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি কোনো ব্যক্তিকে 'শত্রু' হিসেবে ঘৃণা না করে, বরং ধর্মের জন্য কর্তব্য সম্পাদন করেন। এটি আমাদের প্রতিটি মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শেখায়, কারণ সবার হৃদয়েই পরমেশ্বর বিরাজমান।