সরল ভাবার্থ
যিনি প্রিয় বস্তু লাভ করে আনন্দিত হন না এবং অপ্রিয় বস্তু লাভে বিচলিত হন না, সেই স্থিরবুদ্ধি ও মোহমুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী ব্যক্তি ব্রহ্মে অবস্থান করেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি একজন স্থিতপ্রজ্ঞ মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। আমাদের জীবনের বেশির ভাগ শক্তি ব্যয় হয় সুখের পেছনে ছুটতে আর দুঃখ থেকে বাঁচতে।
১. স্থিরবুদ্ধি: বুদ্ধির স্থিরতা মানে হলো চরম উত্তেজনার সময়ও নিজের বিবেককে হারানো নয়। সমুদ্রের ওপরের দিকে ঢেউ থাকলেও নিচে যেমন শান্ত থাকে, জ্ঞানীর অবস্থাও তেমন।
২. অসংমূঢ়: মোহ বা মায়া মানুষকে অন্ধ করে দেয়। জ্ঞানী ব্যক্তি জানেন যে এই জগত পরিবর্তনশীল, আজ যা প্রিয় কাল তা অপ্রিয় হতে পারে। এই সত্য জানা থাকার কারণে তিনি কোনো কিছুতেই অতিরিক্ত আসক্ত হন না।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। জীবনের জোয়ার-ভাটায় যারা অবিচল থাকে, ঈশ্বর তাঁদের সাথেই থাকেন। অর্জুনকে এটি বলা হচ্ছে যাতে তিনি শোকাতুর না হয়ে নিজের বীরত্বে স্থির থাকেন।