॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ২২ ॥

যে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখযোনয় এব তে ।
আদ্যন্তবন্তঃ কৌন্তেয় ন তেষু রমতে বুধঃ ॥ ৫.২২ ॥

সরল ভাবার্থ

হে কৌন্তেয়! ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সংযোগ থেকে যে ভোগ উৎপন্ন হয়, তা কেবল দুঃখেরই কারণ। কারণ সেই সব সুখের শুরু আছে এবং শেষও আছে। বিজ্ঞ ব্যক্তি তাতে আনন্দ খোঁজেন না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি জগতের এক কঠোর সত্য। কৃষ্ণ এখানে বলছেন যে ক্ষণিকের সুখ আসলে দুঃখের বীজ মাত্র।

১. দুঃখয়োনয়: যোনি মানে জন্মস্থান। জাগতিক সুখ হলো দুঃখের জন্মস্থান। কারণ সুখ চলে গেলেই মানুষ কান্নাকাটি শুরু করে। যত বড় সুখ, তার অভাব তত বড় যন্ত্রণা।

২. আদ্যন্তবন্তঃ: যার শুরু আছে তার শেষও আছে। যৌবন শেষ হবে, সম্পদ শেষ হবে, স্বাদ ফুরিয়ে যাবে। বিজ্ঞ মানুষ এমন জিনিসের পেছনে জীবন নষ্ট করেন না যা আজ আছে কাল নেই।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের আসক্তি মুক্ত করে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমরা এই পৃথিবীতে পর্যটক মাত্র। কোনো অস্থায়ী জিনিসের ওপর জীবন বাজি ধরা উচিত নয়।