॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ২৪ ॥

যোহন্তঃসুখোঽন্তরারামস্তথাস্তর্জ্যোতিরেব যঃ ।
স যোগী ব্রহ্মনির্বাণং ব্রহ্মভূতোঽধিগচ্ছতি ॥ ৫.২৪ ॥

সরল ভাবার্থ

যিনি অন্তরেই সুখ অনুভব করেন, যাঁর আরাম বা বিশ্রাম অন্তরেই এবং যাঁর জ্যোতি বা আলো নিজের অন্তরেই—সেই যোগী ব্রহ্মে লীন হয়ে পরম নির্বাণ লাভ করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে 'সুখ' শব্দটিকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আমরা সাধারণত সুখ খুঁজি বাইরের বস্তুতে, কিন্তু এখানে তিনি 'অন্তঃসুখ' বা ভেতরের সুখের কথা বলছেন।

১. অন্তঃসুখ ও অন্তরারাম: অধিকাংশ মানুষ অশান্ত কারণ তাদের সুখ অন্য মানুষের কথা বা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু যোগী নিজের আত্মার সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। তাঁর আনন্দের উৎস কোনো নশ্বর বস্তু নয়, বরং অবিনাশী আত্মা। তিনি ভিড়ের মাঝে থাকলেও নিজের ভেতরে এক নিভৃত আরাম বা প্রশান্তি খুঁজে পান।

২. অন্তরজ্যোতি: বাইরে যখন ঘোর অন্ধকার বা বিভ্রান্তি থাকে, তখন একজন জ্ঞানী ব্যক্তির ভেতরের প্রজ্ঞা বা আলো তাঁকে সঠিক পথ দেখায়। এটি কোনো চাক্ষুষ আলো নয়, এটি হলো বিবেকের স্বচ্ছতা।

৩. ব্রহ্মনির্বাণ: নির্বাণ মানে নিভে যাওয়া—এখানে মানুষের ক্ষুদ্র অহংকার নিভে গিয়ে সে ব্রহ্মের বিশালতায় মিশে যায়। যখন কেউ বুঝতে পারে সে ঈশ্বরেরই অংশ, তখন সে জীবদ্দশাতেই পরম শান্তি লাভ করে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের স্বনির্ভর হতে শেখায়। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি বাইরের যুদ্ধ আর রক্তপাতের মাঝেও নিজের ভেতরে এক অটল শান্তি বজায় রাখতে পারেন। এটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত মন্দির আমাদের হৃদয়েই আছে, যেখানে পৌঁছাতে পারলে বাইরের কোনো কোলাহল আমাদের স্পর্শ করতে পারে না।