॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ২৫ ॥

লভন্তে ব্রহ্মনির্বাণমৃষয়ঃ ক্ষীণকল্মষাঃ ।
ছিন্নদ্বৈধা যতাত্মানঃ সর্বভূতহিতে রতাঃ ॥ ৫.২৫ ॥

সরল ভাবার্থ

যাঁদের সমস্ত পাপ ক্ষয় হয়েছে, যাঁদের সমস্ত সংশয় দূর হয়েছে, যাঁরা সংযত এবং যাঁরা সমস্ত প্রাণীর হিতসাধনে নিয়োজিত—সেই ঋষিগণই পরম ব্রহ্ম লাভ করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে 'ঋষি' বা মুক্ত পুরুষের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল জটাধারী তপস্বীদের কথা নয়, এটি যে কোনো উচ্চমার্গের মানুষের গুণাবলি।

১. ক্ষীণকল্মষাঃ: কল্মষ বা মনের ময়লা বলতে কাম, ক্রোধ ও লোভকে বোঝানো হয়েছে। যতক্ষণ আয়না পরিষ্কার না হয়, ততক্ষণ মুখ দেখা যায় না। তেমনি মন পবিত্র না হলে ব্রহ্ম উপলব্ধি অসম্ভব।

২. ছিন্নদ্বৈধা: দ্বৈধা মানে দ্বিধা বা সংশয়। আমি শরীর না আত্মা?, কাজ করব না সন্ন্যাস নেব?—এই সব সংশয় জ্ঞানের তরবারি দিয়ে যারা কেটে ফেলেছেন, তাঁরাই স্থিপ্রজ্ঞ।

৩. সর্বভূতহিতে রতাঃ: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। হিন্দু ধর্ম কেবল নিজের মুক্তির কথা বলে না। প্রকৃত জ্ঞানী তিনিই যিনি সৃষ্টির প্রতিটি কণা, প্রতিটি জীবের মঙ্গল কামনা করেন এবং সাধ্যমতো সাহায্য করেন। পরোপকার ছাড়া আধ্যাত্মিকতা অপূর্ণ।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সামাজিক দায়িত্ব মনে করিয়ে দেয়। আমরা যখন অন্যের ভালো করি, তখন আসলে নিজের মনের ময়লাই পরিষ্কার করি। অর্জুনকে এটি বলা হচ্ছে কারণ তিনি সংশয়ে ভুগছিলেন। কৃষ্ণ তাঁকে বলছেন, অধর্ম দূর করে জগতকে রক্ষা করাই হলো তোমার জন্য 'সর্বভূতহিত'। এই আদর্শ আমাদের শেখায় স্বার্থপরতা ত্যাগ করে বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করতে।