॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ২৬ ॥

কামক্রোধবিযুক্তানাং যতীনাং যতচেতসাম্ ।
অভিতো ব্রহ্মনির্বাণং বর্ততে বিদিতাত্মনাম্ ॥ ৫.২৬ ॥

সরল ভাবার্থ

যাঁরা কাম ও ক্রোধ থেকে মুক্ত, যাঁর মন বশীভূত এবং যিনি আত্মজ্ঞান লাভ করেছেন—সেই সকল যতি বা যোগীদের জন্য জীবনের সব অবস্থায় (মরবার আগে ও পরে) কেবল পরম শান্তিময় ব্রহ্মই বিরাজ করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে 'অভিতো' (সবদিকে বা সব অবস্থায়) শব্দটি ব্যবহার করে এক অমোঘ নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

১. কামক্রোধবিযুক্ত: কাম ও ক্রোধকে বলা হয় নরকের দ্বার। যখন একজন মানুষ এই দুই আবেগ জয় করেন, তখন তাঁর চারপাশে এক অভেদ্য বর্ম তৈরি হয়। কোনো অপমান বা প্রলোভন তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।

২. যতীনাং বা প্রয়াগকারী: যতি মানে যিনি সবসময় নিজের রিপু বা প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করেন। এটি একদিনের বিষয় নয়, এটি এক আজীবনের সাধনা।

৩. ব্রহ্মের উপস্থিতি: বিদিতাত্মা বা আত্মজ্ঞানী ব্যক্তি যখন শান্ত হন, তিনি দেখেন ব্রহ্ম বাইরে কোথাও নেই, তিনি সবসময় তাঁর চারপাশেই আছেন। অনেকটা যেমন মাছ জলের ভেতরে থেকেও জলকে আলাদা করে চেনে না, মানুষও ব্রহ্মের সমুদ্রে ডুবে আছে কিন্তু কাম-ক্রোধের কারণে তা দেখতে পায় না।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের মন নিয়ন্ত্রণের সুফল দেখায়। আমরা যখন রাগের মাথায় কিছু করি বা তীব্র ইচ্ছায় অন্ধ হই, তখন আমরা ঈশ্বরকে ভুলে যাই। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, তুমি শান্ত হও, তবেই তুমি আমার স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবে। এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের ঝড়ের মাঝে স্থিতপ্রজ্ঞ থাকার প্রেরণা দেয়।